SAFEBPG - 2026 বিশ্বকাপের সাত দিজ্ঞজের ট্রফির যুদ্ধ
২০২৬ফিফা বিশ্বকাপ উত্তর আমেরিকার প্রাণকেন্দ্রে মেক্সিকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার হৃদস্পন্দে শুরু হতে চলেছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে মহাযজ্ঞ - ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। এই প্রথম তিনটি পরাক্র মশালী জাতির মিলিত আয়োজনে, ১৬ টি বিশ্বমানের স্টেডিয়ামের মাঠে ৪৮ টি দেশের জাতীয় দল তাদের শিল্প, অধ্যাবসায় ও স্বপ্নের ঝাণ্ডা উড়িয়ে দেবে।
গতিপথ বদলে দেওয়া বিপ্লবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো অংশগ্রহণকারী দল সংখ্যা বৃদ্ধি, যা এশিয়া, আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকা কে দেবে তাদের প্রতিভার আলো ছড়ানোর সুবিশাল মঞ্চ। আর্জেন্টিনা হবে পঞ্চম তারকা খোজা শিরোপা গাড়ির দল, ব্রাজিল ফিরে পেতে চাইবে হারানো গৌরব, আর ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, স্পেনের মতো দলগুলো দেখাবে তাদের সময়ের শ্রেষ্ঠত্ব। এর মধ্যে দিয়েই বিশ্বকাপ হবে জাতিগত সীমা ছাড়িয়ে বিশ্ব মেলার উৎসব, যেখানে প্রতিটি পাস, প্রতিটি গোল আর প্রতিটি উল্লাস বয়ে আনবে গৌরবের নতুন গল্প।
আমরা এই আর্টিকেলে সাতটি দেশের বর্তমান এবং অতীতের বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা সম্পর্কে জানবোঃ
S পেন (স্পেন): সর্বশেষ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন ও বিশ্ব রেংকিংয়ে থাকা আধুনিক ফুটবলের নিখুঁত মেশিন। স্পেনীয় ফুটবল দল বিশ্ব ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তাদের খেলার শৈলী, যাকে ' টিকি- টাকা' নামে অভিহিত করা হয়, তবে বিশ্ব ফুটবলকে নতুন দর্শন দান করেছে। এটি অত্যান্ত ধৈর্যশীল, সংক্ষিপ্ত পাস ও বলের উপর সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণভিত্তিক একটি দর্শন। এ পদ্ধতির সাফল্যের চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটেছে২০০৮ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে, যখন তারা টানা তিনটি প্রধান শিরোপা - ইউরো ২০০৮, ২০১০ ফিফা বিশ্বকাপ এবং ইউরোপ ২০১২ জয় করে ইতিহাস সৃষ্টি করে। বার্সেলোনা রিয়াল মাদ্রিদের মতো বিশ্বসেরা ক্লাব এদেশের ফুটবল সংস্কৃতির মূল ভিত্তি।লা রোজার জার্সি গায়ে জোহান ক্রইফ , শাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা এবং রড্রির মতো মহান খেলোয়াড়েরা তাদের জাদুকরি দক্ষতায় বিশ্ববাসীকে মনমুগ্ধ করেছেন। স্পেনের ফুটবল কেবল জয় - পরাজয় নয়, এটি একটি শিল্প, একটি আবেগ এবংক্রিড়াজগতের তাদের শ্রেষ্ঠত্বের অমোঘ স্বাক্ষর।
A র্জেন্টিনা (আর্জেন্টিনা): বর্তমান চ্যাম্পিয়ন, মেসির নেতৃত্বে ইতিহাস সৃষ্টির মিশনে অপ্রতিরোধ্য ধর্মের দল। ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা দল প্রবেশ করবে অভিজ্ঞ বিজয়ীর দৃপ্ততাইয়, তাদের লক্ষ্য হবে একটিই - শিরোপা রক্ষা করা এবং১৯৩৮ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাসের সৃষ্টি। গ্রুপ-জে-তে আলজেরিয়া, জর্ডান ও অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হয়ে তুলনামূলক অনুকূল পথে টুর্নামেন্ট শুরু করবে তারা। অধিনায়ক লিওলেন মেসি নেতৃত্বে এই দল শুধু তারার সমাহার নয়, একটি সুসংহত যন্ত্র। কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি গড়ে তুলেছেন এমন এক ইউনিট, যেখানে এমিলিয়ান ও মার্টিনেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর মত অটুট প্রতিরক্ষা, হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের ধ্বংসাত্মক স্ট্রাইকের সঙ্গে মেসির অমগ জাদু মিশে যায়। ফিফার নতুন সিডিং ব্যবস্থা অনুযায়ী, সেমিফাইনালে আগে স্পেন বা ফ্রান্সের মতো প্রধান দৃষ্টি আকর্ষণকারীদের মুখোমুখি হতে হবে না তাদের। কেউ কেউ স্পেনকে ফেভারিট দেখলেও, আর্জেন্টিনা অদম্য মানসিক দৃঢ়তা, জয়ের অভ্যাস এবং চরম চাপে ঠান্ডা মাথায় খেলার ক্ষমতা তাদেরকে যেকোন প্রতিদ্বন্দ্বীর জন্য আতঙ্কের কারণ করে তুলে। 2026 এর উত্তর আমেরিকায় 'লা' আলবিসেলেস্তে আবারো বিশ্বকে দেখাতে চলেছে, কেন ফুটবলের শিরোপা এখনো তাদের ঘরেই সবচেয়ে নিরাপদ।
Fরান্স (ফ্রান্স): এমবাপ্পের জাদুতে সজ্জিত ২০১৮ চ্যাম্পিয়ন ও ২০২২ এর রানার্সআপ তৃতীয় শিরোপার দুরন্ত প্রত্যাশী।'লে ব্ল' নামে পরিচিত ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দল বিশ্ব ফুটবলের এক প্রবল ক্রমাক্রমশালী দৈত্য। এই দলটি দুবার ফিফা বিশ্বকাপ (১৯৯৮ ও ২০১৮) এবং দুবার ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ (১৯৮৪, ২০০০) জয়ের গৌরব অর্জন করেছে। মাইকেল প্লাতিনি, জিনেদিন জিদানের মত কিংবদন্তিদের উত্তরাধিকার বহন করে আজকের এই দল আধুনিক ফুটবলের একটি আদর্শ মডেল। প্রধান কোচ ডি দিয়ে দেশাইয়ের নেতৃত্বে ফ্রান্স তাদের অফুরন্ত প্রতিভার ভান্ডার থেকে বিশ্বমানের তারকা সৃষ্টি করে চলেছে। দলের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে কেবল একজন দ্রুতগামী স্ট্রাইকার নন, বরং বিশ্ব ফুটবলের নতুন প্রজন্মের প্রতীক।অতোয়ান গ্রিয়েজমানের রূপকাদর্শী চিন্তা, ঔরেলিয়া চুয়ামেনি ও এদুয়ার্দ কামাডিঙ্গার মত যুবকদের অফুরন্ত শক্তি ফ্রান্সকে প্রতিটি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়নশিপের দাবিদার এ পরিণত করে। প্যারিসের স্তাদে দে ফ্রান্সের নীল জার্সিধারি এই দল শুধু জয়ের জন্য নয়, শৈল্পিক উৎকর্ষ ও অদম্য প্রতিযোগিতামনস্কতার জন্য ফুটবল বিশ্বে সমাদৃত।
Eনগল্যান্ড (ইংল্যান্ড): পারফেক্ট বাছাই রেকর্ডধারী: টুখেলের তত্ত্বাবধানে ১৯৬৬ পরবর্তী প্রথম শিরোপা স্বপ্ন দেখা দল।২০২৬ বিশ্বকাপ ইংল্যান্ড তাদের সম্ভাব্য ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী দল নিয়ে অংশ নিতে চলেছে। কোচ থমাস টুখেলের অধীনে দলটি নিখুঁত প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে; বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে তারা ৮ ম্যাচে ৮ টি জয় ২২ টি গোল এবং একটি গোলও হজম না করে একটি অভূতপূর্ব রেকর্ড গড়েছে। দলের প্রধান প্রতিপক্ষ 'গ্রুপ এল'-এ ক্রোয়েশিয়া, ঘানা ও পানামার মুখোমুখি হবে তারা। অত্যন্ত সফল বাছাই পর্ব এবং শেষ দুটি বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল ও কোয়ার্টার ফাইনাল পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা তাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। বিশ্বকাপে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, চারটি শীর্ষ সারির দলের অন্যতম হওয়ায় গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ড ফ্রান্স আর্জেন্টিনা বা স্পেনের মুখোমুখি হবে না, শুধুমাত্র সেমিফাইনাল থেকেই তাদের পথ মিলিত হতে পারে। ফলস্বরূপ, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা, হ্যারি কেইনের এর মত অভিজ্ঞ নেতৃত্ব এবং প্রতিভাবন যুবকদের সমন্বয়ে গঠিত এই দল নিশ্চিতভাবেই শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হবে।
Bরাজিল (ব্রাজিল): পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন, দুর্বল বাছাইয়ের পরও সাম্বা যাদু ফিরিয়ে আনতে মারিয়া গল্পের নায়ক।2026 বিশ্বকাপে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন সেলেসাও দলটি উত্থান -পতনের মধ্য দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর এই চ্যালেঞ্জিং যাত্রায় আছে। ইতালির কিংবদন্তি কোচ কার্লো আনচেলত্তির নেতৃত্বে তারা স্থিতিশীলতা ও সুস্পষ্ট পরিচয় খুঁজে পেয়েছে। ব্যক্তিগত প্রতিভায় তারা এখনও অপ্রতিদ্বন্দ্বী, ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রদ্রিগোর মতো তারকারা আক্রমণের নানা অবস্থান ঘুরে খেলেন, সঙ্গে যোগ হয়েছে চেলসির অপপ্রতিরোধ্য কিশোর তারকা এস্তেভাওয়ের সৃজনশীলতা। পাশাপাশি দলের পুরনো দুর্বলতা হিসেবে রয়েছে ফুল - ব্যাক অবস্থানে শূন্যতা এবং অভ্যন্তরীণ আত্মবিশ্বাসের কিছু ঘাটতি। বিশ্বকাপে তারা গ্রুপ সি -তে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে, যা তাদের জন্য ইতিবাচক। আন্দাজি গড়-পরতার মধ্য দিয়ে আসা এ দল একদা সর্বশ্রেষ্ঠ হিসেবে গড়ে ওঠার প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে নামবে, ২০১৪ সালের মতো ঘরের মাঠে নয়, উত্তর আমেরিকার মাটিতে হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে।
Pর্তুগাল (পর্তুগাল): ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ: এক প্রজন্মের সমাপ্তি ও অন্য শিরোপার স্বপ্নের প্রতীক।2026 বিশ্বকাপে পর্তুগাল দল প্রবেশ করবে এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব নিয়ে, যেখানে ফুটবল বিশ্বকে বিদায় জানাতে মাঠে নামবেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এ দলটি তুলনামূলক অনুকূল একটি গ্রুপে স্থান পেয়েছে, যা তাদের নকআউট পর্বে ঢোকার পথ শুগম করতে পারে। রোনালদোর অতুলনীয় নেতৃত্ব ও গোল করার ক্ষমতার পাশাপাশি ব্রুনো ফার্নান্দেস, বের্নার্দো সিলভা এবং জোয়াও ফেলিক্সের মত প্রজন্মের তারকদের ঝলকানো প্রতিভা দলটিকে বিশেষ মাত্রা দিবে, কোচ রোবার্তো মার্তিনেযের কৌশলে আক্রমণাত্মক এই দল প্রতিটি ম্যাচ প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে চাপে রাখবে। তবে, তারা গ্রুপ পর্বে যোগ্যতা নিশ্চিত করতে এখনো চূড়ান্ত লড়াই করছে। গত কয়েকটি টুর্নামেন্টে সুস্থিত পারফরম্যান্স এবং এখনো অক্ষুন্ন থাকা এক মহাতারকার শেষ আসার মুহূর্তের প্রেরণা নিয়ে, 'সেলেসাও' উত্তর আমেরিকায় তাদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা স্বপ্ন পূরণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা।
Gর্মানি (জার্মানি): চারবারের চ্যাম্পিয়ন, সংস্কার ও পুনরুথথানের মাধ্যমে অতীত, গৌরব ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা।২০২৬ বিশ্বকাপে জার্মানি তাদের সম্মান ফিরে পেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ দুটিতে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় এবং ইউরো ২০২৪ এ কোয়ার্টার ফাইনাল বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার পর কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান তোতা দৃঢ় লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন: শিরোপা জয়। দলটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক উচ্চ প্রেস (Passes Per Defensive Action 7.50 %) এবং ফ্লোরিয়ান ডির্টস ও জামাল মুসিয়ালা-র মতো সৃজনশীল তারকার মাধ্যমে খেলাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। বাছাই পর্বে ষোলভা কি আর বিপক্ষে ৬-০ গোলে জয়ী হয়ে তারা আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। অপ্টার সুপার কম্পিউটারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা প্রায.৭.১%। সঠিক মানসিক দৃঢ়তা ও দলগত ঐক্য ধরে রাখতে পারলে এই চারবারের চ্যাম্পিয়ন দল উত্তর আমেরিকায় আবারো বিশ্বকে বিস্মিত করতে সক্ষম হবে।
এই সাতটি অক্ষর শুধু নামের সংক্ষেপন রূপ নয়, এটি 2026 সালের বিশ্বকাপের প্রধান কাহিনীর সূচিপত্র। উত্তর আমেরিকার তিন দেশের আয়োজনে ১১ই জুন থেকে .১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ।
প্রতিযোগিতার চিত্র: গ্রুপ অফ ডেথ থেকে সহজ পথ
৪৮ দলের এই আসরে ড্র - পরবর্তী আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে গ্রুপগুলোর কঠিন - সহজ ভাগ্য।
কঠিনতম গ্রুপের দাবিদার:
- গ্রুপ এল (ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ঘানা, পানামা); একমাত্র গ্রুপ যেখানে দুইটি দল (ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া) ফিফা র্যাংকিংয়ের শীর্ষ দশে ।
- গ্রুপ আই (ফ্রান্স, সেনেগাল, নরওয়ে); এমবাপে, সাদিওমানে ও এরলিং হালান্ডের মত সুপারস্টারদের মিলনস্থল।
- গ্রুপ এফ (নেদারল্যান্ডস, জাপান, তিউনিসিয়া); কোন দলই সহজ নয়: চার দল যেকোনো ক্রমে অবস্থান করতে পারে।
আপাতত সহজ পথ:
- গ্রুপ ই (জার্মানি ): সবচেয়ে কম গড় র্যাংকিং: প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর ,আইভরি কোস্ট ও কিউরাসাউ।
- গ্রুপ জে (আর্জেন্টিনা ): শিরোপা ধারকদের জন্য আদর্শ গ্রুপ: অস্ট্রেলিয়া, আলজেরিয়া ও জর্ডানের সাথে।
- গ্রুপে কে (পর্তুগাল, কলম্বিয়া): শীর্ষ দুই দলের পর বাকিদের র্যাংকিংএ ব্যাপক ব্যবধান।
নতুন ফরম্যাট ও চ্যালেঞ্জ: 48 দলের বিশ্বকাপ
2026 বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে একটি মাইলফলক। এটি হবে প্রথমবারের মতো 48 টি দল অংশ নিবে। এর প্রভাব হচ্ছে:
- এশিয়া ও আফ্রিকার সুযোগ বৃদ্ধি: এশিয়া থেকে সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ আগের চারটি থেকে বেড়ে আটটি হয়েছে।
- আয়োজকদের সুবিধা: যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর দলগুলো তুলনামূলকভাবে অনুকুল গ্রুপে আছে।
- গ্রীষ্মের তাপ: জুন -জুলাই এর উত্তাপ ইউরোপীয় দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, যা ল্যাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকা দলগুলোর কাছে অভিযোজন এর সুবিধা দিতে পারে।
ট্রফির দাবিদার: বিশ্লেষণ ও সম্ভাবনা
সাত ফেভারিট ছাড়াও অন্য দলগুলোও হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
ফেভারিটদের বর্তমান অবস্থা:
- স্পেন: ইউরোর চ্যাম্পিয়ন ও ইয়ামালের নেতৃত্বে শক্তিশালী। একটি সুপার কম্পিউটার মডেল তাদের ১৭ % সম্ভাবনা দেয়।
- ফ্রান্স: এমবাপের নেতৃত্বে সম্পদে ভরপুর। একই মডেলের তাদের জয়ের সম্ভাবনা ১৪.১ %
- ইংল্যান্ড: পারফেট বাছাই রেকর্ড। তাদের সম্ভাবনা ১১.৮%।
বিপদ সংকেত ও হুমকি:
- ব্রাজিল: দুর্বল বাছাই পর্ব পার করেছে, কিন্তু তাদের প্রতিভা ও ইতিহাস কখনোই অবহেলার সুযোগ দেয় না।
- নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া: সু সংঘটিত ও অভিজ্ঞ দল, যে কোন বড় দলকে চমকে দিতে পা।
- আফ্রিকান ও এশিয়ার দল: মরক্কো (সেমিফাইনালীস্ট ২০২২ ), সেনেগাল, জাপান তাদের সাম্প্রতিক সাফল্য প্রমাণ করেছে তারা বড় অঘটন ঘটাতে সক্ষম।
২০২৬ - এর সম্ভাব্য কাহিনী
SAFEBPG শুধু দলগুলোর নাম নয়, এটি আসন্ন লড়াইয়ের পটভূমি।
- পরিবর্তনের বিশ্বকাপ: ৪৮ দলে সম্প্রসারণ ও উত্তর আমেরিকার আয়োজন নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
- বিদায় ও আগমন: ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর শেষ বিশ্বকাপ এবং লামিন ইয়ামালের মত তারকাদের উত্থান দেখা যাবে।
- জলবায়ুর প্রভাব: গ্রীস্মের তাপমাত্রা টুর্নামেন্টের গতিপথ নির্ধারণের বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
- ইতিহাসের দাবি: ব্রাজিল ছাড়া কোন দল ১৯৬২ - পরবর্তী সময়ে টানা শিরোপা জীততে পারেনি আর্জেন্টিনা সেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url