ঘরোয়া উপায়ে প্রাকৃতিক রূপচর্চা: সহজ টিপস ও কার্যকর পদ্ধতি
বর্তমানের দ্রুত জীবন যাপন, দূষণ এবং রাসায়নিক ভিত্তিক প্রসাধনই সামগ্রীর অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের ত্বক ও চুলের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। এরই মধ্যে একটি সুস্থ প্রত্যাবর্তন ঘটেছে প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া রূপচর্চার দিকে।

কেবল সাশ্রয়ী নয়, বরং সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকরী এ পদ্ধতিগুলো শতাব্দী প্রাচীন আয়ুর্বেদিক ও ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
এই প্রবন্ধ গাইডে আমরা শিখব কিভাবে আমাদের রান্নাঘরের লুকিয়ে থাকা উপাদান দিয়ে তৈরি করতে পারি পেশাদার মানের রূপচর্চার পণ্য, বুঝবো ত্বকের প্রকারভেদ অনুযায়ী সঠিক পদ্ধতি নির্বাচনের কৌশল এবং সুফল পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জীবনযাপন পদ্ধতি সম্পর্কে।
ত্বকের ধরন চেনা: প্রথম ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ
যে কোন রূপচর্চা শুরু করার আগে নিজের ত্বকের ধরন চেনা অত্যন্ত জরুরী। ভুল ধরনের পণ্য ব্যবহারে সমস্যা বাড়তে পারে।
ত্বকের প্রধান ধরনগুলো:
স্বাভাবিক ত্বক: নরম, মসৃণ, কম সমস্যাশুষ্ক ত্বক: টানটান ভাব, খসখসে, ফ্ল্যাকি
তৈলাক্ত ত্বক: চকচকে, বড় মুখের রোম, ব্রণের প্রবণতা
মিশ্র ত্বক: টি-জোন তৈলাক্ত, গাল শুষ্ক
সংবেদনশীল ত্বক: লালভাব, চুলকানি, জ্বালাপোড়া
সহজ পরীক্ষা:
সকালে মুখ ধোয়ার ৩০ মিনিট পরে একটি টিস্যু পেপার মুখের উপর চেপে ধরুন। টিস্যুতে তেলের ছাপ দেখা গেলে তৈলাক্ত, শুষ্ক থাকলে শুষ্ক এবং শুধু নাক-কপালে তেল দেখা গেলে মিশ্র ধরনের ত্বক।
ঘরোয়া প্রাকৃতিক রূপচর্চার মূল উপাদানসমূহ
১. মুলতানি মাটি (ফুলাস আর্থ)
গুনাগুন: ত্বক শুদ্ধিকরণ, তেল নিয়ন্ত্রণ, ক্রোমকূপ সংকুচিত করা
ব্যবহার: ফেসপ্যাক, স্ক্রাব
প্রয়োগ পদ্ধতি: গোলাপ জল বা দইয়ের সাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে প্রয়োগ করুন
২. মধু
গুনাগুন: প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
ব্যবহার: ক্লিনজার, মাস্ক, লিপ বাম
মিশ্রণ আইডিয়া: দারুচিনির সাথে মিশিয়ে ব্রনের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যায়
৩. দই / ঘোল
গুনাগুন: ল্যাকটিক এসিড থাকায় প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েট, ত্বক উজ্জ্বল করে
ব্যবহার: ফেসপ্যাক, ক্লিনজার
বিশেষ টিপ: চিনির সাথে মিশিয়ে লিপ স্ক্রাব তৈরি করা যায়
৪. এলোভেরা
গুনাগুন: শীতলীকরণ, ময়েশ্চারাইজিং, ক্ষত নিরাময়
ব্যবহার: সানবার্ন চিকিৎসা, ময়েশ্চারাইজার, হেয়ার জেল
ঘরে চাষ: একটি গাছ রাখুন বারান্দায়, প্রয়োজন মতো ব্যবহার করুন
৫. নারিকেল তেল
গুনাগুন: গভীর ময়েশ্চারাইজিং, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল
ব্যবহার: মেকআপ রিমুভার, বডি মশ্চারাইজার, হেয়ারমাস্ক
সতর্কতা: তৈলাক্ত ত্বকে সীমিত ব্যবহার করুন
৬. হলুদ
গুনাগুন: এন্টি-ইনফ্লামেটরি, অ্যান্টিসেফটিক উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি
ব্যবহার: ফেসপ্যাক, স্ক্রাব
রং সম্পর্কে সতর্কতা: পরিমিত ব্যবহার করুন, বেশি হলে ত্বক হলুদ দেখাতে পারে
৭.
গোলাপজল
গুনাগুন: টোনার, রিফেসিং,pH ব্যালেন্স রক্ষা
ব্যবহার: টোনার, ফেস মিস্ট
ঘরে তৈরি: গোলাপপাতি সারারাত জলে ভিজিয়ে রাখুন
ত্বকের ধরন অনুযায়ী ঘরোয়া ফেসপ্যাক রেসিপি
শুষ্ক ত্বকের জন্য:
এভোকাডো ও মধুর প্যাক
উপকরণ:
- ১/২ টি পাকা অ্যাভোকাডো
- ১ টেবিল চামচ মধু
- ১ চা চামচ জোজোবা তেল ( ঐচ্ছিক)
প্রস্তুত প্রণালী:
১. অ্যাভোকাডো থেতো করে নিন
২.মধু ও তেল যোগ করুন
৩.ভালো করে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন
৪.পরিষ্কার ত্বকে ২০মিনিট রাখুন
৫.হালকা গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন
৬.সপ্তাহে: ২ বার
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য:
মুলতানি মাটি ও নিম পাতার প্যাক
উপকরণ:
- ২ টেবিল চামচ মুলতানি মাটি
- ১ মুঠো নিম পাতা পেস্ট করা
- গোলাপ জল প্রয়োজনমতো
প্রস্তুত প্রণালী:
১.নিম পাতা বেটে পেস্ট তৈরি করুন
২.মুলতানি মাটির সাথে মিশান
৩.গোলাপ জল দিয়ে পেস্টের সামঞ্জস্য আনুন
৪. মুখে লাগিয়ে শুকানো পর্যন্ত রাখুন
৫. ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন
৬সপ্তাহে: ২-৩ বার
ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য:
দারুচিনি ও মধুর ট্রিটমেন্ট
উপকরণ:
- ১ টেবিল চামচ মধু
- ১/২ চা চামচ দারুচিনি গুড়ো
- ২-৩ ফোটা টি ট্রি অয়েল (ঐচ্ছিক)
প্রস্তুত প্রণালী
১. সব উপকরণ একসাথে মিশান
২. শুধুমাত্র ব্রণের উপর স্পট ট্রিটমেন্ট হিসেবে লাগান
৩. ১৫-২০ মিনিট রাখুন
৪. হালকা গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন
।৫.সপ্তাহে: প্রয়োজন অনুযায়ী
উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য:
বেসন ও দইয়ের প্যাক
উপকরণ:
- ২ টেবিল চামচ বেসন
- ১ টেবিল চামচ দই
- ১/২ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো
- কয়েক ফোটা লেবুর রস
প্রস্তুত প্রণালী:
১. সব উপকরণ মিশিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন
২. মুখ ও গলায় লাগান
৩. শুকনো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন
৪. ভেজা হাত দিয়ে ম্যাসেজ করে ধুয়ে ফেলুন
৫.সপ্তাহে: ১ - ২ বার
প্রাকৃতিক স্ক্রাবিং: মরা কোষ দূর করে উজ্জ্বল ত্বক
কফি স্ক্রাব (শরীরের জন্য)
উপকরণ:
- ১/২ কাপ কফি গ্রাউন্ড (ব্যবহৃতও চলবে)
- ১/৪ কাপ নারিকেল তেল বা জলপাই তেল
- ১/৪ কাপ বাদামী বা সাদা চিনি
- ৫-১০ ফোটা এসেনশিয়াল ওয়েল (ভ্যানিলা বা কমলা)
প্রস্তুত প্রণালী:
১. সব উপকরণ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন
২. ভেজা ত্বকে ম্যাসাজ করুন
৩. ৫-১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন
৪. সপ্তাহে১ - ২ বার ব্যবহার করুন
চিনি ও জোজোবা তেল লিপ স্ক্রাব
উপকরণ:
- ১ টেবিল চামচ চিনি
- ১ চা চামচ জোজোবা তেল বা নারিকেল তেল
- ১/২ চামচ মধু
প্রস্তুত প্রণালী:
১. সব উপকরণ মিশান
২. ঠোটে হালকা মাসাজ করুন
৩. ২ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন বা তুলে ফেলুন
৪. সপ্তাহে ২ - ৩ বার ব্যবহার করুন
ঘরোয়া চুলের যত্ন; প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মুকুট
চুলের ধরন চেনা:
- শুষ্ক চুল: রুক্ষ, ফ্রিজি, নরম না
- তৈলাক্ত চুল: শিকড়ে তেল, দ্রুত আঠালো হয়ে যাওয়া
- স্বাভাবিক চুল: নরম, ঝলমলে, কম সমস্যা
- ড্যামেজড চুল: ভঙ্গুর, ফাটাচুল, রুক্ষতা
নারিকেল তেল হেয়ার মাস্ক (সব ধরনের চুলের জন্য)
উপকরণ:
- ৩-৪ টেবিল চামচ নারিকেল তেল (তেল গরম করুন)
- ১ টেবিল চামচ মধু
- ৫-১০ ফোটা রোজ মেরী এসেন্সিয়াল ওয়েল (ঐচ্ছিক)
প্রস্তুত প্রণালী:
১. সব উপকরণ মিশান
২. শিকড় থেকে ডগা পর্যন্ত লাগান
৩. ৩০ মিনিট থেকে সারারাত রাখুন
৪. শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন
৫. সপ্তাহে: ১-২ বার
শুষ্ক ও ফিজি চুলের জন্য আমলা ও দইয়ের প্যাক
উপকরণ:
- ২ টেবিল চামচ আমলা গুঁড়ো
- ৩ টেবিল চামচ দই
- ১ টেবিল চামচ নারিকেল তেল
প্রস্তুত প্রণালী:
১. আমলা গুঁড়ো ও দই মিশিয়ে ১০ মিনিট রাখুন
২.তেল যোগ করুন
৩. চুলে লাগিয়ে ৪৫ মিনিট রাখুন
৪. ধুয়ে ফেলুন
৫. সপ্তাহে:১ বার
খুশকি দূর করার নিম পেস্ট
উপকরণ
- ১ কাপ নিমপাতা
- ১/২ কাপ পান
- ২ টেবিল চামচ মেথি গুঁড়ো
প্রস্তুত প্রণালী
১. নিম পাতা পেস্ট তৈরি করুন
২. মেথি গুঁড়ো মিশান
৩. মাথার ত্বকে লাগিয়ে৩০ মিনিট রাখুন
৪. শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন
৫. সপ্তাহে ২ বার
শরীরের যত্ন: সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক গ্লো
গ্লোয়িং বডি স্ক্রাব
উপকরণ:
- ১ কাপ সাগু বা চালের গুঁড়ো
- ১/২ কাপ নারিভকেল তেল
- ১/৪ কাপ মধু
- ১০ ফোটা কমলা বা ল্যাভেন্ডার এসেন্সিয়াল অয়েল
প্রস্তুত প্রণালী:
১. সব উপকরণ মিশিয়ে জার ভর্তি করুন
২. ভেজা শরীরে ম্যাসাজ করুন
৩. ৫মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন
৪. সপ্তাহে: দুইবার
হাত ও পায়ের যত্ন
প্রাকৃতিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার:
উপকরণ:
- ১/৪ কাপ অ্যালোভেরা জেল
- ১/৪ কাপ আইসো প্রোফাইল অ্যালকোহল 99%
- ১০ ফোটা টি ট্রি ওয়েল
- ৫ ফোটা লেভেন্ডার অয়েল
প্রস্তুত প্রণালী:
সব উপকরণ মিশিয়ে একটি বোতলে রাখুন
ফুট সোয়াক :
উপকরণ:
- ১ গামলা গরম পানি
- ১/৪ কাপ এপসম সল্ট বা সাধারন লবণ
- ৫-১০ ফোটা পেপার মিন্ট অয়েল
- ১ চামচ লেবুর রস
প্রস্তুত প্রণালী:
সব উপকরণ মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখুন
রূপচর্চায় খাদ্যাভাসের ভূমিকা: সৌন্দর্য ভেতর থেকে
ত্বক উজ্জ্বলকারী খাবার:
- পানি: দিনে অন্তত 8 - 10 গ্লাস
- রঙিন শাকসবজি: গাজর, টমেটো, পালং শাক
- ওমেগা-3 যুক্ত খাবার: আখরোট, ফ্লাক্সি সিড, সামুদ্রিক মাছ
- ভিটামিন সি: আমলকি, লেবু, কমলা, ক্যাপসিকাম
- প্রোটিন: ডাল, বিনস, সয়াবিন, ডিম
এড়িয়ে চলুন;
- অতিরিক্ত চিনি ও লবণ
- প্রক্রিয়া জাত খাবার
- কোমল পানীয়
- অতিরিক্ত ক্যাফেইন
সুপার ফুডস রূপচর্চায়:
- আমলকি: ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়
- হলুদ: আন্টি ইনফ্লামেটরি
- মেথি: ত্বকের সংক্রমণ দূর করে
- তুলসী: ডিটক্সি ফাইং গুন
প্রাকৃতিক রূপচর্চার সাথে জীবন যাপন পদ্ধতি
পর্যাপ্ত ঘুম:
- রাত ১০ থেকে সকাল ৬ টা পর্যন্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন
- ৭-৮ ঘন্টা নিরবিচ্ছিন্ন ঘুম ত্বকের পুনর্জন্মে সাহায্য করে
- সিল্কের বালিশের কভার ব্যবহার করুন
স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট:
- দিনে ১০ মিনিট মেডিটেশন
- যোগব্যায়াম ও প্রানোয়াম
- প্রকৃতির সাথে সময় কাটানো
ব্যায়াম:
- সপ্তাহে পাঁচ দিন 30 মিনিট ব্যায়াম
- রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে ত্বক উজ্জ্বল করে
প্রাকৃতিক রূপচর্চায় সাধারণ ভুল ও সমাধান
ভুল ১ : সব প্রাকৃতিক উপাদান সবার জন্য নিরাপদ নয়
সমাধান; নতুন কোন উপাদান ব্যবহারের আগে হাতে বা গলায় টেস্ট করে নিন
ভুল ২; বেশি বার মুখ ধোয়া
সমাধান: দিনে 2-3 বার মুগ্ধ হয় যথেষ্ট, বেশি ধূলে ত্বকের
প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়
ভুল ৩: এক্সফ্লোয়েটিং বেশি করা
সমাধান: সপ্তাহে১-২ বার স্ক্যাবিং যথেষ্ট
ভুল ৪: সানস্ক্রিন ব্যবহার না করা
সমাধান: বাড়িতে তৈরি জিংক অক্সাইড based সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন বা বাজার
থেকে প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন কিনুন
ঋতু ভেদে প্রাকৃতিক রূপচর্চার বিশেষ টিপস
গ্রীষ্মকাল:
- হালকা, জলীয় প্যাক ব্যবহার করুন
- গোলাপ জল স্প্রে করুন
- বেশি করে পানি পান করুন
বর্ষাকাল:
- আন্টি-ফাঙ্গাল উপাদান ব্যবহার করুন (নিম, টি ট্রি অয়েল )
- স্ক্রাবীং কম করুন
শরৎকাল:
- ময়েশ্চারাইজার বেশি ব্যবহার করুন
- উষ্ণ তেল মাসাজ করুন
শীতকাল:
লেবেল পড়ার কৌশল:
👉উপাদানের তালিকায় প্রথম ৫ টি উপাদান দেখুন (এগুলোই প্রধান)
👉রাসায়নিক নাম চিনুন: প্যারাবেন, সালফেট, সিনথেটিক , ফ্রেগ্ররেন্স
👉প্রাকৃতিক সার্টিফিকেসন দেখুন: USDAOrganic, Ecocert
প্রাকৃতিক ডিওডোরেন্ট :
উপকরণ:
- ১/৪ কাপ বেকিং সোডা
- ১/৪ কাপ আরো রুট পাউডার
- ৫ টেবিল চামচ নারিকেল তেল
- ১০ ফোটা এসেনশিয়াল ওয়েল
প্রস্তুত প্রণালী:
সব উপকরণ মিশিয়ে একটি জারে রাখুন
প্রাকৃতিক রূপচর্চার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ফলাফল দেখতে সময় লাগে। রাসায়নিক পণ্য যেমন তাৎক্ষণিক ফল দেই, প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে সময় লাগে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে প্রাকৃতিক পদ্ধতিই বেশি টেকসই ও নিরাপদ।
৩০ দিনের চ্যালেঞ্জ:
১. প্রথম সপ্তাহ: প্রতিদিন ৮ গ্লাস পানি পান করুন
২.দ্বিতীয় সপ্তাহ: সপ্তাহে ৩ বার ঘরোয়া ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন
৩.তৃতীয় সপ্তাহ: প্রক্রিয়াজাত খাবার বন্ধ করুন
৪.চতুর্থ সপ্তাহ: ৭ - ৮ ঘন্টা ঘুমের রুটিন তৈরি করুন।
প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া রূপচর্চা শুধু সৌন্দর্য রক্ষার পদ্ধতি নয়, এটি একটি জীবন দর্শন। এটি আমাদের শেখায়, কিভাবে প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে জীবন যাপন করতে হয়, কিভাবে ক্ষতিকর রাসায়নিক থেকে মুক্তি পেতে হয় এবং কিভাবে আত্মনির্ভরশীল হতে হয়।
এই যাত্রা শুরু হয় ছোট একটি পদক্ষেপ দিয়ে - হয়তো আজ থেকে মুলতানি মাটি ও গোলাপজলের প্যাক ব্যবহার করে, কিংবা কাল থেকেই নিজের হাতে তৈরি স্ক্রাব ব্যবহার করে।
প্রাকৃতিক রূপচর্চার সবচেয়ে সৌন্দর্য দিক হলো এর কোন শেষ নেই। প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার আছে, নতুন কিছু তৈরি করার আছে। আপনার নিজের অভিজ্ঞতা, আপনার ত্বকের প্রক্রিয়া দেখে আপনি নিজেই হয়ে উঠবেন একজন বিশেষজ্ঞ।
সুন্দর থাকুন, প্রাকৃতিক থাকু্ নিজের যত্ন নিন।
- ঘন প্যাক ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
- গরম পানির বদলে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন
প্রাকৃতিক রূপচর্চায় টেকসইতা ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি
- পুনঃ ব্যবহারযোগ্য পাত্র ব্যবহার করুন
- স্থানীয় ও মৌসুমী উপকরণ বেছে নিন
- কম্পোস্ট করুন ব্যবহৃত প্রাকৃতিক উপাদান।
- প্লাস্টিক মুক্ত স্টোর পদ্ধতি ব্যবহার করুন
বাজার থেকে প্রাকৃতিক পণ্য নির্বাচনের উপায়
লেবেল পড়ার কৌশল:
👉উপাদানের তালিকায় প্রথম ৫ টি উপাদান দেখুন (এগুলোই প্রধান)
👉রাসায়নিক নাম চিনুন: প্যারাবেন, সালফেট, সিনথেটিক , ফ্রেগ্ররেন্স
👉প্রাকৃতিক সার্টিফিকেসন দেখুন: USDAOrganic, Ecocert
সহজে
তৈরি করুন নিজের প্রসাধনী:
প্রাকৃতিক ডিওডোরেন্ট :
উপকরণ:
- ১/৪ কাপ বেকিং সোডা
- ১/৪ কাপ আরো রুট পাউডার
- ৫ টেবিল চামচ নারিকেল তেল
- ১০ ফোটা এসেনশিয়াল ওয়েল
প্রস্তুত প্রণালী:
সব উপকরণ মিশিয়ে একটি জারে রাখুন
প্রাকৃতিক রূপচর্চার ধৈর্য ও ধারাবাহিকতার গুরুত্ব
প্রাকৃতিক রূপচর্চার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ফলাফল দেখতে সময় লাগে। রাসায়নিক পণ্য যেমন তাৎক্ষণিক ফল দেই, প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে সময় লাগে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে প্রাকৃতিক পদ্ধতিই বেশি টেকসই ও নিরাপদ।
৩০ দিনের চ্যালেঞ্জ:
১. প্রথম সপ্তাহ: প্রতিদিন ৮ গ্লাস পানি পান করুন
২.দ্বিতীয় সপ্তাহ: সপ্তাহে ৩ বার ঘরোয়া ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন
৩.তৃতীয় সপ্তাহ: প্রক্রিয়াজাত খাবার বন্ধ করুন
৪.চতুর্থ সপ্তাহ: ৭ - ৮ ঘন্টা ঘুমের রুটিন তৈরি করুন।
উপসংহার
প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া রূপচর্চা শুধু সৌন্দর্য রক্ষার পদ্ধতি নয়, এটি একটি জীবন দর্শন। এটি আমাদের শেখায়, কিভাবে প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে জীবন যাপন করতে হয়, কিভাবে ক্ষতিকর রাসায়নিক থেকে মুক্তি পেতে হয় এবং কিভাবে আত্মনির্ভরশীল হতে হয়।
এই যাত্রা শুরু হয় ছোট একটি পদক্ষেপ দিয়ে - হয়তো আজ থেকে মুলতানি মাটি ও গোলাপজলের প্যাক ব্যবহার করে, কিংবা কাল থেকেই নিজের হাতে তৈরি স্ক্রাব ব্যবহার করে।
প্রাকৃতিক রূপচর্চার সবচেয়ে সৌন্দর্য দিক হলো এর কোন শেষ নেই। প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার আছে, নতুন কিছু তৈরি করার আছে। আপনার নিজের অভিজ্ঞতা, আপনার ত্বকের প্রক্রিয়া দেখে আপনি নিজেই হয়ে উঠবেন একজন বিশেষজ্ঞ।
সুন্দর থাকুন, প্রাকৃতিক থাকু্ নিজের যত্ন নিন।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url