মাহে রমজানের তারাবি ও যাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম
মাহে রমজানের তারাবি ও যাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম: পরকালের পাথেয় ও আত্মশুদ্ধির মাস
ভূমিকা
পবিত্র মাহে রমজান মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসে। এই মাস আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য, ত্যাগ এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক স্বর্ণালী সুযোগ। রোজার ফরজ বিধান পালনের পাশাপাশি এই মাসে দুটি বিশেষ ইবাদত অত্যন্ত ফজিলত পূর্ণ; তারাবির নামাজ এবং যাকাত।
ইসলামের মূল স্তম্ভসমূহের মধ্যে যাকাত যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ, তেমনি রমজান মাসের তারাবি নামাজ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। সত্যিই মাহে রমজানের তারাবি ও যাকাতের গুরুত্ব অপরসীম। একটি ইবাদত যেমন দেহ আত্মার পরিশুদ্ধি আনে, অন্যটি সম্পদকে পবিত্র করে এবং সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখে।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা এই দুই ইবাদতের মর্যাদা, বিধান এবং আমাদের জীবনে এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
পবিত্র মাহে রমজানের ফজিলত ও মর্যাদা
মাহে রমজান মাসকে কেন এত মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, তা বুঝতে হলে কোরআন ও হাদিসের দিকে তাকাতে হবে। এই মাসেই মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে পবিত্র কোরআন নাযিল হয়েছে। এ মাসের প্রতিটি রাত ও দিন অশেষ বরকত ময়। এ মাসে একটি নফল ইবাদতের সওয়াব ফরজের সমান এবং একটি ফরজ ইবাদতের সওয়াব অন্য মাসের সওরটি ফরজের সমান হয়।
এই মাসের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এতে জান্নাতের দরজা গুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। ফলে মুমিন বান্দা খুব সহজেই ভালো কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয় এবং পাপ থেকে দূরে থাকতে পারে। এই পবিত্র সময়ে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে একজন মুসলিম তার সারা বছরের জীবনের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করতে পারেন। আর এই পাথেয় সংগ্রহে সবচেয়ে কার্যকরী হাতিয়ার হল তারাবি ও যাকাত। তাই সহজে বলা যায়, মাহে রমজানের তারাবি ও যাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম।
তারাবি নামাজ: রমজানের বিশেষ নিয়ামত
তারাবি শব্দটি আরবি "তারবিহা" থেকে এসেছে, যার অর্থ আরাম করা, বিশ্রাম নেওয়া। প্রতি চার রাকাত পর পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার কারণে এ নামাজকে তারাবি বলা হয়। এটি রমজান মাসের একটি বিশেষ সুন্নত ইবাদত।
তারাবির নামাজের বিধান
তারাবির নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। রাসূলুল্লাহু (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেই নামাজ পড়েছেন এবং সাহাবীদের পড়তে উৎসাহিত করেছেন। হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), সাহাবীরাও তার সঙ্গে নামাজের শরিক হলেন। দ্বিতীয় রাতে আর ও বেশি লোক জমায়েত হলো। তৃতীয় বা চতুর্থ রাতের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের জমায়েত দেখেও বের হলেন না। সকালে তিনি বললেন, "তোমাদের জমায়েত হওয়া আমি দেখেছি, কিন্তু এ আশঙ্কায় আমি বের হয়ে আসেনি যে, এ নামাজ তোমাদের উপর ফরজ করে দেওয়া হতে পারে।" (বোখারী ও মুসলিম)। এটি প্রমাণ করে তারাবির নামাজের গুরুত্ব কতখানি।
তারাবি নামাজের ফজিলত ও উপকারিতা
তারাবির নামাজের মাধ্যমে রমজান মাসের রাতগুলোকে ইবাদত-বন্দেগীতে কাটানোর সুযোগ হয়। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের নিয়তে রমজানের রাতে (তারাবির নামাজে) দাঁড়ায়, তার পূর্ববর্তী গুনাহ সমূহ মাফ করে দেওয়া হয় (বুখারী ও মুসলিম)।
তারাবির নামাজের আরেকটি বড় ফজিলত হলো, এতে সাধারণত কোরআন খতম দেওয়া হয়। পবিত্র কোরআন শোনা এবং তেলাওয়াত করা উভয়টিই ইবাদত। রমজান মাসে কোরআন নাজিলের ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে কোরআন তেলাওয়াত ও শ্রবনের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সাথে সম্পর্ক আরো মজবুত করে। এছাড়াও, তারাবির নামাজ মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতিক। সারা বিশ্বের মুসলিমরা এই সাথে একই পদ্ধতিতে এই নামাজ আদায় করেন, যা ইসলামী ভ্রাতৃত্বের বন্ধন কে সুদৃঢ় করে। তাই সব দিকে বিবেচনায় মাহে রমজানের তারাবি ও যাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম, কেননা তারাবি যেমন আত্মিক প্রশান্ত দেই, যাকাত তেমনি সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠা করে।
যাকাত: ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ
জাকাত শুধু একটি দান বা সদাকাহ নয়; এটি ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি। নামাজের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হল যাকাত। পবিত্র কুরআনে নামাজের সাথে যাকাতের কথা বারবার উল্লেখ করা হয়েছে।
যাকাতের সংজ্ঞাও গুরুত্ব
যাকাত শব্দের অর্থ পবিত্রতা, বৃদ্ধি, বারকত ও প্রশংসা। ইসলামী পরিভাষায়, নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ নির্দিষ্ট সময় পর তা থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর নির্ধারিত খাত সমূহে ব্যয় করাকে যাকাত বলে। এটি সম্পদশালী মুসলিমদের জন্য একটি ফরজ বিধান। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, " তোমরা নামাজ কায়েম কর এবং যাকাত প্রদান কর।" (সুরা বাকারা :১১০)।
যাকাতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব
যাকাত ব্যবস্থা ইসলামের একটি অনন্য অর্থনৈতিক দর্শন। এটি একটি সমাজের সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করে। যখন ধনীদের সম্পদ থেকে একটি অংশ গরীব-দুঃখী, অসহায়, ইবনে সাবিল (নিঃস্ব মুসাফির )এবং অন্যান্য খাতের মধ্যে বিতরণ করা হয়, তখন সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর হয়।
যাকাতের মাধ্যমে ধনী ব্যক্তি তার সম্পদকে পবিত্র করে এবং আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে। অন্যদিকে, গরীব-দুঃখীরা সমাজের বিত্তবানদের প্রতি হিংসা পরায়ণ না হয়ে তাদের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়। এর ফলে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। যাকাতের মাধ্যমে ইসলাম একটি কল্যাণকামী সমাজ গঠনে বার্তা দেয়। এখানেই প্রমাণিত হয়, মাহে রমজানের তারাবি ও যাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম।
যাকাতের খাতসমূহ
কাদেরকে যাকাত দেওয়া যাবে, পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবে আটটি খাত উল্লেখ করে দিয়েছেন:
১. ফকির (অতি দরিদ্র, যার কিছুই নেই)
২. মিসকিন (দরিদ্র যার সক্ষমতা অপর্যাপ্ত)
৩. যাকাত আদায়কারী
৪. নওমুসলিম (যাদের ইসলাম গ্রহণে উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন)
৫. দাস-মুক্তির জন্য
৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি
৭. আল্লাহর পথে (ফি সাবিলিল্লাহ)
৮. মুসাফির (যে সফরে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে)
রমজানে যাকাত আদায়ের বিশেষ মর্যাদা
যদিও যেকোনো সময় যাকাত আদায় করা যায়, কিন্তু রমজান মাসে যাকাত দেওয়ার বিশেষ ফজিলত ও গুরুত্ব রয়েছে।
কেন রমজানে যাকাত দেওয়া উত্তম?
রমজান মাসে নেক আমলের সওয়াব বহুগুণী বৃদ্ধি পায়। এই মাসে একটি ফরজ ইবাদতের সওয়াব অন্য মাসের সওরটি ফরজের সমান। যাকাত একটি ফরজ ইবাদত হওয়ায়, রমজানে তা আদায় করলে এর সওয়াব অন্যান্য মাসে তুলনায় অনেক বেশি পাওয়ার আশা করা যায়।
রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সবচেয়ে বড় দানশীল ব্যক্তি। বিশেষ করে রমজান মাসে জিব্রাইল (আ.)-এর সাথে তার সাক্ষাতের সময় তিনি প্রবাহিত বায়ুর চেয়েও বেশি দান করতেন। (বুখারী ও মুসলীম)। এই হাদিস থেকে রমজানের দান -সদাকাহ ও যাকাত আদায়ের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।
রমজানে যাকাত আদায়ের সুবিধা
রমজান মাসে গরিব-দুঃখী মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য এটি সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এই মাসে সিয়াম পালনকারী অনেক অসহায় মানুষ ইফতার ও সেহরির সামগ্রী সংগ্রহে ধনীদের সাহায্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকেন। যাকাতের অর্থ দিয়ে তাদের এই চাহিদা পূরণ করা সমম্ভ। তাছাড়া, রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ রাতে যাকাত আদায় করলে তার প্রতিদানও অসীম। তাই বলা যায় মাহে রমজানের তারাবি ও যাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ এই মাসে তারাবি যেমন রাতের ইবাদত, যাকাত তেমনি দিনের ও রাতের ইবাদতকে পূর্ণতা দেয়।
তারাবি ও যাকাত: আত্মশুদ্ধি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়
মাহে রমজান মুমিনের জীবনকে একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। এখানে শুধু আত্মিক উন্নতি নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক দায়িত্বও পালনের শিক্ষা দেওয়া হয়।
আত্মিক উন্নতি ও পার্থিব কল্যাণ
তারাবির নামাজ মানুষের অন্তরকে জাগ্রত করে, আল্লাহমুখী করে এবং পরকালমুখী করে। এটি মানুষকে অহংকার ও লোভ থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, যাকাত মানুষকে সম্পদের মোহ থেকে মুক্তি দেয় এবং আল্লাহর পথে ব্যায় করার মানসিকতা তৈরি করে। একজন মুমিন যখন নামাজের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জন করে এবং যাকাতের মাধ্যমে সমাজের প্রতি নিজের দায়িত্ব পালন করে, তখন সে একজন পূর্ণাঙ্গ মুসলিম হিসেবে গড়ে ওঠে।
সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা
তারাবির নামাজ মুসল্লিদের এক কাতারে দাঁড় করিয়ে সাম্যের বার্তা দেই। আর যাকাত সে সাম্যের বাস্তব রূপ। এটি নিশ্চিত করে যে, সমাজের সম্পদ শুধু একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে আবর্তিত না হয়ে বরং সব স্তরের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। এই দুই ইবাদতের সমন্বয়েই একটি আদর্শ ইসলামী সমাজের ভিত্তি রচনা করে। সুতরাং, একথা পুনর্ব্যক্ত করাই যায় যে , মাহে রমজানের তারাবি ও যাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম।
সঠিক নিয়মে তারাবি ও যাকাত আদায়ের পদ্ধতি
ইবাদতের সঠিক নিয়ম ও পদ্ধতি জানা প্রতিটি মুমিনের জন্য জরুরী, যাতে তা কবুল হয়।
তারাবি পড়ার নিয়ম
তারাবি নামাজ ২০ রাকাত। অধিকাংশ সাহাবী ও তাবেয়িন এই মত পোষণ করেছেন। এটি দুই রাকাত করে দশটি সালামে পড়া উত্তম। বেতরের নামাজ তারাবির পরে একা বা জামাতের সাথে পড়া যায়।রমজান মাসে মসজিদে জামাতের সাথে তারাবি পড়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। ইমামের সাথে কোরআন খতম করা অনেক বড় সওয়াবের কাজ।
যাকাতের হিসাব ও আদায়ের পদ্ধতি
যাকাতের জন্য প্রথমে নিজের সম্পদ নির্ধারণ করতে হবে। নিসাব পরিমাণ সম্পদ (সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা অথবা সমমূল্যের টাকা বা ব্যবসায়ী পণ্য) থাকলে তার উপর ২.৫% হারে যাকাত ফরজ হয়। নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, বসবাসের ঘর, ব্যবসার যানবাহন, ইত্যাদি যাকাতের আওতাভুক্ত নয়। এক বছর ধরে সম্পদ নিসাব পরিমাণ থাকলে, বছরের যে কোন সময় হিসাব করে পুরো সম্পদের উপর যাকাত আদায় করা আবশ্যক। যাকাতের টাকা সরাসরি খাতভুক্ত ব্যক্তিদের দিয়ে দেওয়া বা তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া যায়। মনে রাখতে হবে, যাকাতের টাকা নিজের পরিবারের সদস্যদের দেওয়া যায় না, যাদের ভরণপোষণ দেওয়া তার উপর ফরজ।
নিয়ত করা
যেকোনো ইবাদতের মূল চাবিকাঠি হল নিয়ত। তারাবি ও যাকাত উভয় ক্ষেত্রেই খালেস নিয়ত করা জরুরী। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, তার হুকুম পালনের জন্যই যেন এই ইবাদত করা হয়।
তারাবি ও যাকাত সংক্রান্ত সাধারণ ভুলত্রুটি ও সতর্কতা
প্রচলিত ধর্মীয় অনুশীলনের কিছু ভুল ত্রুটি আমাদের সমাজে দেখা যায়, এড়িয়ে চলা উচিত।
তারাবির নামাজে তাড়াহুড়ো
অনেক জায়গায় তারাবির নামাজ সঠিকভাবে রুকু-সিজদা না করে, তাড়াহুড়ো করে নামাজ শেষ করতে দেখা যায়। নামাজের মূল রুকন হল ধীর স্থিরতা ও বিনয়। তারাবি নামাজও এর ব্যতিক্রম নয়। সঠিকভাবে ও ধীরে-সুস্থে নামাজ পড়া উচিত, এমন কি যদি কম কোরআন পড়াও হয়।
যাকাতের টাকা ভুল খাতে ব্যয়
অনেক সময় আবেগের বশবর্তী হয়ে যাকাতের টাকা ভুল খাতে দিয়ে দেওয়া হয়, যেমন মসজিদ নির্মাণ, কবরস্থানের উন্নয়ন ইত্যাদি। কোরআনে বর্ণিত আটটি খাতের বাইরে যাকাতের টাকা দেওয়া জায়েজ নয়। মসজিদ নির্মাণের জন্য সাধারণ দান-সদাকাহ করা যায়, কিন্তু যাকাতের টাকা নয়।
যাকাত না দেওয়ার কুফল
যাকাত না দেওয়া কবিরা গুনাহ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতালা সতর্ক করেছেন, যারা সোনা-রুপা জমা করে রাখে এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সংবাদ দাও। (সুরা তাওবা; ৩৪)। তাই সামর্থ্য থাকলে যাকাত আদায় করা অবশ্যই আবশ্যক। আর এই যাকাত আদায়ের মাধ্যমে সম্পদ যেমন পবিত্র হয়, তেমনি পরকালে শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আলোচনা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা দেখতে পাই, মাহে রমজানের তারাবি ও যাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম।
উপসংহার
মাহে রমজান মুমিনদের জন্য একটি প্রশিক্ষণের মাস। এই মাসে রোজা, তারাবি ও যাকাত আমাদের ধৈর্য, সহমর্মিতা ও ত্যাগের শিক্ষা দেই। তারাবির নামাজ আমাদের রাতকে জাগ্রত করে এবং কোরআনের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে। অন্যদিকে যাকাত আমাদের সম্পদকে পবিত্র করে এবং সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে শেখায়।
এই দুই ইবাদতকে সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমেই আমরা রমজানের পূর্ণ ফজিলত লাভ করতে পারি। শুধু রোজা রেখে ক্ষুধার্ত-তৃষ্ণার্ত থাকায় রমজানের লক্ষ্য নয়; বরং রমজানের প্রকৃত শিক্ষা হলো আত্মশুদ্ধি ও সমাজ কল্যাণে আত্মনিয়োগ করা। তাই আমাদের উচিত তারাবির নামাজ যথাযথভাবে আদায় করা এবং যাকাতের হিসাব সঠিকভাবে নির্ধারণ করে তা সময়মতো পাত্র-পাত্রীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। পরিশেষে আবারো মনে করিয়ে দিই মাহে রমজানের তারাবি ও যাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে রমজানের পূর্ণ মর্যাদা অনুধাবন করে উভয়ই ইবাদত যথাযথভাবে পালনের তৌফিক দান করুন। আমীন।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url