নতুনদের জন্য সহজ রান্নার রেসিপি ও গাইড
নতুনদের জন্য সহজ রান্নার রেসিপি ও গাইড 一শুরু করুন আজ থেকেই
রান্না শেখার কথা মাথায় আসলেই অনেকের মনে প্রথম যে প্রশ্নটা আসে 一" কোথা থেকে
শুরু করবে?" হয়তো আপনি সবে হোস্টেলে উঠেছেন, বিদেশে পড়তে গেছেন, নতুন
বিয়ে হয়েছে, অথবা শুধু নিজে রান্না শিখতে চাইছেন - যে কারণেই
হোক, রান্না একটা দারুন দক্ষতা বা একবার শিখলে সারা জীবন কাজে আসে।
আমি নিজেও একসময় রান্নাঘরে গেলে ঘাবড়ে যেতাম। কোথা থেকে শুরু করব, কতটুকু
মসলা দেব, কখন আচ কমাবো - এই প্রশ্নগুলো মাথায় ঘুরতেই থাকতো। তবে একটু
একটু করে শিখতে শিখতে আজ বেশ ভালই রান্না করতে পারি। আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আজ
লিখছি এই নতুনদের জন্য সহজ রান্নার রেসিপি ও গাইড, যা আপনাকে একদম
শূন্য থেকে শুরু করতে সাহায্য করবে।
নতুনদের জন্য সহজ রান্নার রেসিপি ও গাইড খুঁজছেন? এই ব্লগে পাবেন ধাপে ধাপে রান্নার টিপস , সহজ রেসিপি, রান্না ঘরের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং সব ধরনের খাবার তৈরির পূর্ণাঙ্গ গাইড।
রান্না শেখার আগে মানসিকভাবে প্রস্তুত হন
অনেকেই ভাবেন রান্না শুধু মেয়েদের কাজ বা রান্না শিখতে হলে কোন বিশেষ প্রতিভা
লাগে। আসলে দুটোই ভুল ধারণা। রান্না একটি জীবনদক্ষতা যা ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে
সবার জানা উচিত। আর প্রতিভার চেয়ে বেশি লাগে ধৈর্য, অনুশীলন এবং একটু
সাহস।
প্রথমদিকে রান্না ভালো না হলে হতাশ হবেন না। রান্না পুড়ে গেলে, লবণ
বেশি হলে বা স্বাদ ঠিক না হলে - এগুলো রান্না শেখার স্বাভাবিক অংশ। বিশ্বের
সেরা শেফরাও কিন্তু এভাবেই শুরু করেছিলেন।
মনে রাখবেন, নতুনদের জন্য সহজ রান্নার রেসিপি ও গাইড মেনে চললে আপনিও
অল্প সময়ের মধ্যে ভাল রান্না করতে পারবেন।
রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম一শুরুতে এগুলো থাকলেই চলবে
রান্না শুরু করার আগে কিছু মৌলিক সরঞ্জাম থাকা দরকার। শুরুতেই অনেক কিছু কেনার
দরকার নেই। নিচের জিনিসগুলো থাকলে বেশিরভাগ রান্না করা সম্ভব।
অবশ্যই প্রয়োজনীয়:
কড়াইবা ফ্রাইপ্যান: একটা মাঝারি আকারের নন-স্টিক কড়াই থাকলে
ভাজা, কষানো, ডিম রান্না সবকিছু করা যায়। নন-স্টিক হলে পরিষ্কার করাও
সহজ।
একটা ছোট সসপ্যান: ডাল রান্না, স্যুপ বানানো বা ছোট পরিমাণে
তরকারি রান্নার জন্য।
চাকুও কাটিং বোর্ড: একটা ভালো মানের চাকু রান্নাকে অনেক সহজ করে দেই।
শাকসবজি, মাংস সবকিছু কাটার জন্য আলাদা কাটিং বোর্ড ব্যবহার করুন।
কাঠের খুন্তি: লোহার খুন্তি নন-স্টিক প্যানের আবরণ নষ্ট করে দেই।
কাঠের খুন্তি ব্যবহার করুন।
ছাকুনি ও মেপের চামচ: পরিমাণ মতো উপকরণ দেওয়া ভালো রান্নার রহস্য। শুরুতে
মেপে মেপে রান্না করুন।
ঢাকনা: রান্না দ্রুত হওয়ার জন্য ঢাকনা অপরিহার্য।
রান্নাঘরের মসলা ও উপকরণ - সবসময় মজুদ রাখুন
নতুন রাঁধুনিদের একটা বড় সমস্যা হল রান্না করতে বসে দেখেন কোন মসলা নেই। তাই
শুরু থেকেই কিছু মৌলিক মসলা ও উপকরণ মজুদ রাখার অভ্যাস করুন।
প্রতিদিনের মসলা:
- হলুদ গুঁড়া
- মরিচ গুঁড়া
- ধনে গুড়া
- জিরা গুড়া
- গরম মসলা গুঁড়া
- লবণ
- চিনি
- রসুন
- পেঁয়াজ
- কাঁচা মরিচ
- ধনেপাতা
- সরিষার তেল
- সোয়াবিন তেল
- সরিষা
- তেজপাতা
- এলাচ, দারচিনি, লবঙ্গ
এই উপকরণগুলো থাকলে বাংলাদেশের প্রায় যেকোনো রেসিপি করা সম্ভব।
নতুনদের জন্য সহজ রান্নার রেসিপি ও গাইড অনুসরণ করলে এই মসলাগুলোর
ব্যবহার ধীরে ধীরে আপনার কাছে স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
রান্নার মৌলিক কৌশল - এগুলো শিখলে যে কোন রান্না করতে পারবেন
রান্নার কিছু মৌলিক কৌশল বা টেকনিক আছে যেগুলো একবার ভালো করে শিখলে যে কোন রেসিপি অনুসরণ করা সহজ হয়ে যায়।
👉ফোড়ন দেওয়া বা তড়কা
ফোড়ন হলো তেলি মসলা গরম করে সুগন্ধ বের করার পদ্ধতি। তেল গরম করুন, তারপর পেঁয়াজ, আদা-রসুন বা শুকনো মসলা দিন। এ কাজটা রান্নার স্বাদের ভিত্তি তৈরি করে।
👉কষানো
কষানো মানে পেঁয়াজ ও মসলা তেলে ভালো করে ভেজে নেওয়া যতক্ষন না তেল আলাদা হয়। এই ধাপটা বাদ দিলে তরকারিতে কাঁচা মশলার গন্ধ থেকে যায়।
👉সেদ্ধ করা
ডাল, আলু বা ডিম সিদ্ধ করা রান্নার সবচেয়ে সহজ কাজ। তবে কতক্ষণ সেদ্ধ করতে হবে সেটা জানা জরুরী।
👉ভাজা
তেলে উচ্চ তাপে দ্রুত ভাজাকে ডিপ ফ্রাই বলে, আর অল্প তেলে ভাজাকে শ্যালো ফ্রাই বলে। নতুনদের শ্যালো ফ্রাই দিয়ে শুরু করা ভালো।
👉ঢিমে আঁচে রান্না
ডিম রান্না - নতুনদের প্রথম পাঠ
ডিম হলো নতুন রাধুনীদের সবচেয়ে ভালো বন্ধু। সহজে পাওয়া যায়, দামে সস্তা, পুষ্টিকর এবং নানাভাবে রান্না করা যায়। চলুন কয়েকটা ডিমের রেসিপি দেখি।
সহজ ডিম ভুনা
উপকরণ:
- ডিম- ২ টা
- পেঁয়াজের কুচি -১ টা মাঝারি
- কাঁচামরিচ -২ টা
- হলুদ গুঁড়া -সামান্য
- লবণ -স্বাদমতো
- তেল - ২ টেবিল চামচ
প্রণালী: কড়াইতে তেল গরম করুন। পেঁয়াজ কুচি দিয়ে সোনালী করে ভাজুন। হলুদ ও লবন দিন। ডিম ভেঙ্গে ঢেলে দিন। কাঁচা মরিচ দিন। ডিম সেট হওয়া পর্যন্ত নাড়তে থাকুন। গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন।
ডিম পোচ
ডিম পোচ দেখতে যতটা কঠিন মনে হয়, বানানো ততটা কঠিন নয়। একটা প্যানে পানি ফুটিয়ে নিন। ডিম আস্তে আস্তে ভেঙে পানিতে ছেড়ে দিন। ৩ থেকে ৪ মিনিট রাখুন। কুসুম নরম থাকবে কিন্তু সাদা অংশ শক্ত হবে। পাউরুটির উপর দিয়ে খান।
ডাল রান্না - প্রতিদিনের সেরা প্রোটিন
ডাল বাংলাদেশের খাদ্য তালিকার একটি অপরিহার্য অংশ। সহজে রান্না হয় এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর।
মসুর ডালের তড়কা
উপকরণ:
- মসুর ডাল - ১ কাপ
- পেঁয়াজ - ১ টা (মাঝারি, কুচি)
- রসুন - ৩ থেকে ৪ কুয়া
- আদা - ছোট টুকরো
- হলুদ গুঁড়া - আধা চা চামচ
- মরিচ গুঁড়া - আধা চা চামচ
- লবণ - স্বাদমতো
- সরিষার তেল - ৩ টেবিল চামচ
- জিরা - আধা চা চামচ
- শুকনো মরিচ - ২ টা
- ধনেপাতা - এক মুঠো
প্রণালী:
ডাল ভালো করে ধুয়ে ২ কাপ পানি দিয়ে সেদ্ধ করুন। হলুদ ও সামান্য লবন দিন। ডাল নরম হলে নামান।
আলাদা কড়াইতে তেল গরম করুন। জিরা ও শুকনো মরিচ দিয়ে ফোড়ন দিন। পেয়াজ কুচি দিয়ে সোনালী করুন। আদা-রসুন দিন। মরিচ গুঁড়া ও লবণ দিয়ে ভালো করে কষান। সেদ্ধ ডাল ঢেলে দিন। মিশিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট জাল দিন। ধনেপাতা ছড়িয়ে নামান।
আলু ভর্তা ও আলু ভাজি - সহজ ও মজাদার
আলু ভর্তা এবং আলু ভাজি - এই দুটো রান্না রান্না শিখতে চাওয়া প্রত্যেকের জন্য আদর্শ। খুব কম উপকরণে, খুব কম সময়ে তৈরি হয় এবং স্বাদে অসাধারণ।
আলু ভর্তা
উপকরণ;
- আলু -৩ টা (মাঝারি)
- পেয়াজ কুচি - টেবিল চামচ
- কাঁচামরিচ কুচি - ১ চা চামচ
- সরিষার তেল - ১ টেবিল চামচ
- লবণ - স্বাদমতো
- ধনেপাতা - সামান্য (ঐচ্ছিক)
আলু ভাজি
উপকরণ:
- আলু - ৩ টা (লম্বা করে কাটা)
- হলুদ - সামান্য
- লবণ - স্বাদমতো
- তেল - ৩ টেবিল চামচ
- পাঁচফোড়ন - সামান্য *ঐচ্ছিক)
প্রণালী: আলু কেটে হলুদও লবণ মাখান। পড়াইতে তেল গরম করুন। পাঁচফোড়ন দিন। আলু দিয়ে ঢাকনা দিন। মাঝে মাঝে নাড়ুন। আলু সোনালী ও মুচমুচে হলে নামান।
এই ধরনের রেসিপিই নতুনদের জন্য সহজ রান্নার রেসিপি ও গাইড-এর কেন্দ্রবিন্দুーকম উপকরণ, বেশি স্বাদ।
ভাত রান্না - মনে হয় সহজ, আসলে কৌশল আছে
অনেকেই মনে করেন ভাত রান্না সবচেয়ে সহজ কাজ, কিন্তু ঠিকমতো না জানলে ভাত গলে যায় বা কাঁচা থাকে।
নিখুঁত ভাত রান্নার পদ্ধতি
ধাপ ১: চাল ভালো করে ধুয়ে নিন। ৩ থেকে ৪ বার ধুয়ে চালের অতিরিক্তস্টার্চ বের হয়ে যায়।
ধাপ ২: চালের পরিমাণের দেড় থেকে দুই গুণ পানি দিন। ১ কাপ চালে ১.৫ থেকে ২ কাপ পানি।
ধাপ ৩: উচ্চ আঁচে ফুটতে দিন। ফুটে উঠলে আঁচএকবারে কমিয়ে দিন।
ধাপ ৪: ঢাকনা দিয়ে ১৫ থেকে .২০ মিনিট রাখুন। মাঝে ঢাকনা খুলবেন না।
ডিম দিয়ে নুডলস - ১৫ মিনিটে দারুণ সকালের নাস্তা
নাস্তা সকালে দ্রুত কিছু বানাতে চাইলে নুডলস একটি দারুণ অপশন।
উপকরণ:
- নুডলস - ১ প্যাকেট
- ডিম - ১ টা
- পেঁয়াজ - আধাটা
- কাঁচা মরিচ - ২ টা
- সয়া সস - ১ চা চামচ
- তেল - ২ টেবিল চামচ
- লবণ - স্বাদমতো
- সবজি (গাজর, বাঁধাকপি) - সামান্য
প্রণালী; নুডলস প্যাকেটের নির্দেশ অনুযায়ী সেদ্ধ করুন। আলাদা কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজ ও সবজি ভাজুন। ডিম দিয়ে নাড়ুন। নুডলস দিন। সয়া সস ও মসলা দিন। মিশিয়ে পরিবেশ করুন।
রুটি বানানো - প্রতিদিনের সহজ নাস্তা
অনেকে মনে করেন রুটি বানানো কঠিন। কিন্তু একটু অনুশীলনে এটা খুব সহজ হয়ে যায়।
আটার রুটি
উপকরণ:
- আটা - ২ কাপ
- লবণ - স্বাদমতো
- পানি - পরিমাণ মতো
- তেল - ১চা চামচ
প্রণালী:
আটায় লবণ মিশিয়ে নিন। অল্প অল্প করে পানি দিয়ে মেখে নরম আটার তাল তৈরি করুন। ১০ মিনিট ঢেকে রাখুন।
ছোট ছোট বল করুন। বেলন দিয়ে পাতলা করে বেলুন। তাওয়া বা কড়ায় গরম করুন। রুটি দিন। হালকা শুকিয়ে এলে উল্টান। দুই পিঠ হালকা বাদামী হলে নামান।
ফিরনি বা পায়েস ー মিষ্টি শেষ করুন মিষ্টি দিয়ে
রান্না শিখতে শিখতে মিষ্টি তৈরিও শিখে নিন। ফিরনি তুলনামূলকভাবে সহজ একটি মিষ্টান্ন।
সহজ ফিরনি
উপকরণ:
- দুধ ー১ লিটার
- চালের গুড়া ー ৩ টেবিল চামচ
- চিনিー ৪ টেবিল চামচ
- এলাচー ২ টা
- গোলাপজল ー১ চা চামচ
- পেস্তা বাদাম ー সাজানোর জন্য
প্রণালী:
দুধ জাল দিন। চালের গুড়া সামান্য ঠান্ডা দুধে গুলে নিন। নাড়তে থাকুন। চিনি ও এলাচ দিন। ঘন হলে নামান। ঠান্ডা করে পরিবেশ করুন।
রান্নার সময়ও পরিকল্পনা - স্মার্টভাবে রান্না করুন
ভাল রান্না মানে শুধু রেসিপি জানা নয়, সময় ও পরিকল্পনার বিষয়টাও গুরুত্বপূর্ণ।
মিল প্লানিং করুন: সপ্তাহের শুরুতে ঠিক করুন কোন দিন কি রান্না করবেন। এতে বাজার করাও সহজ হয় এবং সময়ও বাঁচে।
প্রেপ করে রাখুন: আগের দিন সবজি কেটে, আদা-রসুন বেটে রেফ্রিজারেটরে রাখুন। রান্নার সময় অনেক সহজ হয়।
একসাথে একাধিক পদ রান্না করুন: ডাল চুলায় রাখুন, পাশাপাশি সবজি ভাজুন। একসাথে সব শেষ হবে।
লেফটওভার ব্যবহার করুন: রাতের বাড়তি ভাত সকালে ফ্লাইড রাইস হতে পারে। বাড়তি তরকারি সকালের রুটির সাথে খাওয়া যায়।
রান্না ঘরের নিরাপত্তা - নতুনদের জন্য জরুরী টিপস
নিরাপদে রান্না করাটাও শেখার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
চাকু সাবধানে ধরুন: আঙ্গুল গুটিয়ে কার্টুন। চাকু যেন সব সময় দূরে রাখা থাকে।
গরম তেল থেকে সাবধান: তেলে পানি পড়লে ছিটকে উঠে। ভেজা হাতে বা ভেজা জিনিস তেলে দেবেন না।
আগুন থেকে সাবধান: চুলার কাছে ঝুলন্ত কাপুড় বা ওড়না রাখবেন না।
গরম পাত্র ধরতে যা ঝাল / মোটা কাপড় ব্যবহার করুন।
চুলা থেকে দূরে সরে যাওয়ার আগে গ্যাস বন্ধ করুন।
রান্না শেখার সেরা উপায় গুলো
ইউটিউব দেখুন: বাংলায় অনেক ভালো রান্নার চ্যানেল আছে। ভিডিও দেখলে ধাপ গুলো বুঝতে সহজ হয়।
পরিবারের মানুষের কাছ থেকে শিখুন: মা, খালা, দাদি বা বাবা - যে রান্না ভালো জানেন তার কাছে শিখুন। এই হাতের কাছ থেকে শেখার কোন বিকল্প নেই।
প্রতিদিন অনুশীলন করুন: সপ্তাহে একদিন নতুন কিছু রান্না করার চেষ্টা করুন।
রেসিপি বই পড়ুন: ভালো রেসিপি বই থেকে অনেক কিছু শেখা যায়।
ভুল থেকে শিখুন: রান্না পুড়ে গেলে বা নষ্ট হলে মন খারাপ না করে ভুলটা খুঁজে বের করুন।
নতুনদের জন্য সহজ রান্না রেসিপি ও গাইড মেনে চলুন এবং প্রতিদিন একটু একটু করে শিখুন - খুব শীঘ্রই নিজেই অবাক হবেন কতটা এগিয়ে গেছেন।
রান্নার পুষ্টি জ্ঞান - স্বাস্থ্যকর রান্না করুন
রান্না জানলেই হবে না, স্বাস্থ্যকর ভাবে রান্না করাটাও জরুরী।
তেল কম ব্যবহার করুন: বেশি তেল মানে বেশি ক্যালোরি। ননস্টিক প্যান ব্যবহার করলে তেল কম লাগে।
লবণ পরিমাণ মতো দিন: অতিরিক্ত লবণ রক্তচাপ বাড়ায়।
সবজি বেশি খান: সবজিতে প্রচুর ভিটামিন ও ফাইবার থাকে।
প্রোটিন প্রোটিন ব্যালেন্স করুন: ডাল, ডিম, মাছ, মাংস - এগুলো পালাক্রমে খান।
অতিরিক্ত সেদ্ধ করবেন না: সবজি বেশি সেদ্ধ করলে পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়।
বিশেষ পরিস্থিতিতে রান্না - হোস্টেল বা মেসে থাকলে
অনেকে হোস্টেল বা মেসে থেকে প্রথমবার রান্না শিখতে চান। এই পরিস্থিতিতে কিছু বিশেষ পরামর্শ কাজে আসবে।
গ্যাসের পরিবর্তে ইন্ডাকশন কুকার ব্যবহার করুন: নিরাপদ ও ব্যবহার করা সহজ।
ছোট পরিমানে রান্না করুন: একা থাকলে ছোট পরিমানে রান্না করুন যাতে নষ্ট না হয়।
সহজ এক-পাত্রে রান্না শিখুন: খিচুড়ি, ওটস বা ফ্রাইড রাইস - একটা পাত্রেই পুরো খাবার।
মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার শিখুন: দ্রুত গরম করা ও সহজ রান্নার জন্য মাইক্রোওয়েভ দারুন কাজের।
খিচুড়ি 一এক পাত্রে পুরো খাবার
খিচুড়ি হলো সম্ভবত সবচেয়ে সহজ সম্পূর্ণ খাবার।
উপকরণ:
- চাল一১ কাপ
- মসুর ডাল 一আধা কাপ
- আলু 一 ১ টা (কিউব করা)
- পেঁয়াজ 一১ টা
- আদা-রসুন বাটা 一১ চা চামচ
- হলুদ 一আধা চা চামচ
- লবণ 一স্বাদমতো
- তেল 一৩ টেবিল চামচ
- পানি 一৪ থেকে ৫ কাপ
- ঘি 一১ চা চামচ ঐচ্ছিক
প্রণালী:
কড়াইতে তেল গরম করুন। পেঁয়াজ ভাজুন। আদা-রসুন দিন। মসলা দিয়ে কষান। ধুয়ে রাখা চাল ও ডাল দিন। নাড়ুন। আলু দিন। পানি দিন। লবণ দিন। ঢাকনা দিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করুন। চাল ডাল নরম হলে ঘি দিয়ে নামান।
রান্নার ভুল ও সমাধান
রান্না করতে গিয়ে কিছু সাধারণ ভুল হয়। চলুন জানি সেগুলো ও সমাধান কি।
| সমস্যা | কারন | সমাধান |
|---|---|---|
| লবন বেশি হয়েছে | মাপ ছাড়া দেওয়া | আলু বা আটার তাল দিন, বা পানি দিয়ে পাতলা করুন |
| রান্না পুড়ে গেছে | বেশি আঁচ | আঁচ নিয়ন্ত্রণ করুন, মাঝে মাঝে নাড়ূন |
| মাংস শক্ত হয়েছে | কম সময়ে রান্না | আরও কিছুক্ষণ ঢিমে আঁচে রান্না করুন |
| তরকারি পানি পানি হয়েছে | পানি বাশি | ঢাকনা খুলে উচ্চ আঁচে পানি শুকান |
| ভাত গলে গেছে | পানি বেশি | পরের বার পানি কমান |
| কাঁচা মশলার গন্ধ | কম কষান | আরও বেশি সময় কষান |
বাজেটে রান্না - কম খরচে পুষ্টিকর খাবার
সিজনাল সবজি কিনুন: মৌসুমী সবজি দামে সস্তা ও পুষ্টিকর।
ডাল ও ডিম বেশি খান: এগুলো সস্তায় প্রোটিনের সেরা উৎস।
বাজারের তালিকা করে যান: তালিকা ছাড়া বাজার করলে অপ্রয়োজনীয় জিনিস
কেনা হয়।
বড় পরিমানে কিনুন: চাল, ডাল, তেল বড় প্যাকেটে কিনলে দাম কম
পড়ে।
বাড়তি খাবার নষ্ট করবেন না: লেফটওভার দিয়ে নতুন পদ বানান।
প্রতিদিনের রান্নার রুটিন তৈরি করুন
একটা নির্দিষ্ট রুটিন থাকলে রান্না অনেক সহজ হয়ে যায়। নিচে একটা আদর্শ
রুটিনের উদাহরণ দেওয়া হল।
সকাল:
- ডিম ভুনা বা পোঁচ + রুটি
- চা বা দুধ
দুপুর:
- ভাত + ডাল + একটা সবজি + মাছ বা মাংস (সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন)
রাত:
- ভাত + একটা সহজ তরকারি বা খিচুড়ি
এই রুটিন অনুসরণ করলে রান্না সহজ হয় এবং পুষ্টির ভারসাম্যও বজায় থাকে। এই
ধরনের পরিকল্পনামূলক পদ্ধতিই নতুনদের জন্য সহজ রান্নার রেসিপি ও গাইড-এর মূল ভিত্তি।
সহজ স্নাক্স ও নাস্তা রেসিপি
রান্নার পাশাপাশি সহজ স্নাক্স ও বানাতে পারা ভালো।
পেঁয়াজু
পেঁয়াজ কুচি, ময়দা, লবণ, মরিচ ও সামান্য পানি মিশিয়ে ঘন
মিশ্রণ তৈরি করুন। চামচে করে গরম তেলে ছেড়ে দিন। সোনালী হলে তুলন।
সেদ্ধ ডিম স্যান্ডউইচ
ডিম সেদ্ধ করুন। স্লাইস করুন। পাউরুটিতে মেয়োনিজ বা সরিষা লাগান।
ডিম, শসা ও পেঁয়াজ দিন। ঢাকনা দিন।
চা
এক কাপ পানিতে চায়ের পাতা ফুটান। দুধ দিন। চিনি দিন। ছেকে পরিবেশ
করুন।
রান্না শেখা মানে নিজেকে যত্ন নেওয়া
শেষ কথা বলতে চাই একটু অন্যভাবে। রান্না শেখাটা শুধু পেট ভরানোর বিষয় নয়। এটা
নিজেকে যত্ন নেওয়ার একটা সুন্দর পদ্ধতি। নিজের হাতে রান্না করা খাবার খেলে মন
যেমন ভালো থাকে, শরীরও সুস্থ থাকে। বাইরের খাবারের উপর নির্ভরশীলতা
কমে।
প্রথমদিকে হয়তো রান্না ভালো হবে না। হয়তো মশলার পরিমাণ ঠিক হবে না বা কিছু
পুড়ে যাবে। কিন্তু হাল ছাড়বেন না। প্রতিটা ভুল থেকে শিখুন। প্রতিদিন একটু
একটু করে উন্নতি করুন।
নতুনদের জন্য সহজ রান্নার রেসিপি ও গাইড মেনে চললে এবং নিয়মিত অনুশীলন
করলে কয়েক মাসের মধ্যে আপনি এমন রান্না করতে পারবেন যা দেখলে নিজেই অবাক হবেন।
রান্না একটা শিল্প, একটা বিজ্ঞান এবং একটা ভালোবাসার ভাষাও বটে।
তাই আজই শুরু করুন। রান্নাঘরে ঢুকুন। চুলা জ্বালান। রেসিপি দেখুন। রান্না
করুন। খান এবং উপভোগ করুন। আপনার রান্নার যাত্রা শুভ হোক।
👉এই আর্টিকেলটি আপনার কাজে লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। রান্না
সম্পর্কে যে কোন প্রশ্ন থাকলে নিচের কমেন্টে জানান।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url