বাংলা নববর্ষের ক্যালেন্ডার ১৪৩৩: বর্ষবরণের ইতিহাস, তাৎপর্য
ও পূর্ণাঙ্গ পঞ্জিকা
ভূমিকা
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। পুরনো বছরের জীর্ণতা পিছনে ফেলে নতুন বছরকে
বরণ করে নেওয়ার দিন এটি। আগামী ১৪ই এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হচ্ছে বাংলা ১৪৩৩ সন।
বাংলা নববর্ষের ক্যালেন্ডার ১৪৩৩ শুধু তারিখ গণনার ফর্দ
নয়, এটি বাঙালির আবহমান ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনধারার এক জীবন্ত দলিল।
বাংলা পঞ্জিকা বা ক্যালেন্ডার সাধারণত বাংলাভাষী মানুষের অর্থাৎ বাংলাদেশ ও
পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ব্যবহার করে থাকে।
বাংলা নববর্ষের ক্যালেন্ডার ১৪৩৩ সন গ্রেগোরিয়ান ক্যালেন্ডারের ১৪ই
এপ্রিল ২০২৬ থেকে ১৩ এপ্রিল .২০২৭ সাল পর্যন্ত সময়ব্যাপী বিস্তারিত। এই
ক্যালেন্ডারটি বাংলাদেশের জাতীয় ও সরকারি ক্যালেন্ডারের সর্বশেষ সঠিক সংশোধিত
সংস্করণ।
এই দীর্ঘ প্রবন্ধে আমরা জানবো বাংলা নববর্ষের ক্যালেন্ডার ১৪৩৩-এর
ইতিহাস, তাৎপর্য, মাসের নামকরণের রহস্য, বিভিন্ন ধর্মীয় ও
সাংস্কৃতিক উৎসবের তারিখ এবং প্রতিটি মাসের বিস্তারিত ক্যালেন্ডার। আশা
করি, বাঙালির প্রাণের এই ক্যালেন্ডার সম্পর্কে আপনার জানার আগ্রহ পুরোপুরি
মেটাতে সক্ষম হব আমরা।
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস ও ক্রমবিকাশ
বাংলা সনের উদ্ভব: সম্রাট আকবরের ভূমিকা
বাংলা নববর্ষের ক্যালেন্ডার ১৪৩৩-এর শিকড় অনেক গভীরে প্রথিত। ইতিহাস
ঘেঁটে দেখা যায়, মোগল সম্রাট আকবরের সময় থেকেই বাংলা সনের গণনা শুরু হয়।
ভারতবর্ষে মোগল সাম্রাজ্য পরিচালিত হতো হিজরী পঞ্জিকা অনুসারে। কিন্তু হিজরী সন
চাঁদের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় কৃষি ফলন এর সঙ্গে এর কোন মিল পাওয়া যেতনা।
সম্রাট আকবর এর সুষ্ঠ সমাধানের জন্য বাংলায় বর্ষপঞ্জি সংস্কারের উদ্যোগ
গ্রহণ করস্থ। সম্রাটের আদেশ অনুযায়ী সে সময়কার বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও
চিন্তাবিদ আমির ফতেহউল্লাহ সিরাজী সৌর বছর ও আরবি হিজরি সালের উপর ভিত্তি করে
নতুন বাংলা সনের এর নিয়ম তৈরীর কাজ শুরু করেন।
মূলত ১৫৫৬ সালে কার্যকর হওয়া বাংলা সন প্রথম দিকে পরিচিত ছিল ' ফসলি সন' নামে।
পরে তা পরিচিতি হয় 'বঙ্গাব্দ' নামে। অর্থাৎ বাংলা সনের সঙ্গে কৃষির ইতিহাস
ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কারণ, কৃষিকাজ ছিল ঋতু নির্ভর, আর বাংলা ছিল মূলত
কৃষিভিত্তিক একটি পঞ্জিকা।
বাংলা মাসের নামকরণের ইতিহাস
বাংলা ১২ মাসের নামের উৎপত্তি নিয়ে নানামত রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা দেখা
গেছে, বাংলা মাসের নাম গুলো বিভিন্ন নক্ষত্রের নাম থেকে নেওয়া হয়েছে।
যেমন:
- বিশাখা নক্ষত্র থেকে বৈশাখ
- জ্যেষ্ঠা নক্ষত্র থেকে জ্যৈষ্ঠ
- আষাঢ়া নক্ষত্র থেকে আষাঢ়
- শ্রবনা নক্ষত্র থেকে শ্রাবণ
- ভাদ্রপদ নক্ষত্র থেকে ভাদ্র
- কৃতিকা নক্ষত্র থেকে কার্তিক
- অগ্রহায়ণী থেকে অগ্রহায়ণ
- পুষ্যা নক্ষত্র থেকে পৌষ
- মঘা নক্ষত্র থেকে মাঘ
- ফাল্গুনী নক্ষত্র থেকে ফাল্গুন
- চিত্রা নক্ষত্র থেকে চৈত্র
আগের দিনে অগ্রহায়ণ মাসে ধান কাটা শুরু হতো বলে এ মাস কে বছরের প্রথম মাস ধরা
হতো। তাই এ মাসের নামেই রাখা হয় অগ্রহায়ণ। অগ্র অর্থ প্রথম আর হায়ণ অর্থ বর্ষ
বা ধান।
বাংলা নববর্ষের তাৎপর্য ও উদযাপন
পহেলা বৈশাখ: বাঙালির প্রাণের উৎসব
পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত
প্রতিটি বাঙালি দিনটিকে নববর্ষ হিসেবে পালন করে। সে হিসেবে এটি বাঙ্গালীদের একটি
সর্বজনীন প্রাণীর উৎসব।
কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হলো নববর্ষ। অতীতের ভুল ত্রুটি ও ব্যর্থতার
গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদযাপিত হয় নববর্ষ।
পহেলা বৈশাখ বাঙালি একটি সার্বজনীন লোক উৎসব। এদিন আনন্দঘন পরিবেশে বরন করে
নেওয়া হয় বাংলা নতুন বছরকে।
মঙ্গল শোভাযাত্রা: বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি
বাংলা নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রা। ১৯৮৯ সালে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট এর উদ্যোগে প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়।।
এটি ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো কর্তৃক 'বিশ্ব সংস্কৃতিক ঐতিহ্য' হিসেবে
স্বীকৃতি পায়।
মঙ্গল শোভাযাত্রা এখন বাঙালির অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীকে পরিণত
হয়েছে। বিভিন্ন রং-বেরঙের মুখোশ, পান্তা-ইলিশের বিভিন্ন
প্রতিকৃতি, হাতি ঘোড়ার প্রতিকৃতি নিয়ে চারুকলার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এই
শোভাযাত্রা বের করেন, যা ধীরে ধীরে সারাদেশের সংস্কৃতিতে ছড়িয়ে পড়েছে।
হালখাতা: বাঙালি ব্যবসায়ীদের ঐতিহ্য
অতীতে বাংলা নববর্ষের মূল উৎস ছিল হালখাতা। এটি পুরোপুরি একটি অর্থনৈতিক ব্যাপার।
গ্রামে-গঞ্জে- নগরে ব্যবসায়ীরা নববর্ষের প্রারম্ভে তাদের পুরনো হিসাব- নিকাশ
সম্পন্ন করে হিসাবের নতুন খাতা খুলতেন। এ উপলক্ষে তারা নতুন -পুরাতন ক্রেতাদের
আমন্ত্রণ জানিয়ে মিষ্টি বিতরণ করতেন এবং নতুন ভাবে তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক
যোগসূত্র স্থাপন করতেন। চিরাচরিত এই অনুষ্ঠানটি আজ ও অনেক জায়গায় পালিত
হয়।
পান্তা-ইলিশ: ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার
বাংলা নববর্ষের আরেকটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হল পান্তা-ইলিশ। ভাতের
পান্তা, সাথে ইলিশ ভাজা আর কাঁচা মরিচ - এই যেন বাংলা নববর্ষের
অনুষঙ্গ। শহর-গ্রাম নির্বিশেষে বাঙালিরা এই দিন পান্তা-ইলিশ খেয়ে নতুন বছরকে বরণ
করে নেই। নাগরিক জীবনে এখন পান্তা-ইলিশের এই ঐতিহ্য জাঁকজমক ভাবে পালিত হয়।
বাংলা ১৪৩৩ সনের পূর্ণাঙ্গ ক্যালেন্ডার
বাংলা নববর্ষের ক্যালেন্ডার ১৪৩৩ শুরু হচ্ছে ১৪ই এপ্রিল ২০২৬ থেকে এবং শেষ হবে ১৩
এপ্রিল ২০২৭-এ। নিচে প্রতিটি মাসের বিস্তারিত ক্যালেন্ডার ও বিশেষ দিবসের তালিকা
দেওয়া হলো। এখানে প্রতিটি বাংলা তারিখের নিচে ও সংশ্লিষ্ট ইংরেজি তারিখ দেওয়া
হয়েছে।
বৈশাখ ১৪৩৩ (এপ্রিল-মে ২০২৬)
বাংলা বছরের প্রথম মাস বৈশাখ। এ মাসেই বাঙ্গালী নতুন বছরকে বরণ করে নেই। ১৪
এপ্রিল পহেলা বৈশাখ সরকারি ছুটির দিন। এদিন ভোরে রমনা বটমূলে ছায়া নোটের বর্ষবরণ
অনুষ্ঠান, চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক
অনুষ্ঠান, পান্তা-ইলিশ খাওয়ার ধুম পড়ে যাই।
বৈশাখ মাসের ক্যালেন্ডার:
বৈশাখ মাসের বিশেষ দিবস:
- ১ বৈশাখ( ১৪ এপ্রিল) - পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ
- ৪ বৈশাখ (১৭ এপ্রিল) - বিশ্ব কন্ঠ দিবস, অমাবস্যা
- ৬ বৈশাখ (১৯ এপ্রিল) - অক্ষয় তৃতীয়া
- ১৪ বৈশাখ (২৭ এপ্রিল) - মোহনি একাদশী
- ১৮ বৈশাখ (১ মে) - মে দিবস
- ২৫ বৈশাখ (৮ মে) - রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী
- ২৯ বৈশাখ (১২ মে) - বুদ্ধ পূর্ণিমা, নার্স দিবস
জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ (মে-জুন ২০২৬)
গ্রীষ্মের দ্বিতীয় মাস জ্যৈষ্ঠ। এ মাসে তাপমাত্রা বেশি থাকে, সাথে থাকে
কালবৈশাখীর দাপট। এ মাসে পড়ে নজরুল জন্ম জয়ন্তী এবং ঈদুল আযহা (চাঁদ দেখার
উপর নির্ভরশীল)
জৈষ্ঠ মাসের ক্যালেন্ডার
জ্যৈষ্ঠমাসের বিশেষ দিবস:
- ১১ জৈষ্ঠ (২৫ মে ) - নজরুল জন্ম জয়ন্তী
-
২২-২৬ জ্যৈষ্ঠ (৫-৯ জূন) - ঈদুল আযহা চাঁদ দেখার
উপর নির্ভরশীল
- ৫ জ্যৈষ্ঠ (১৯ মে) - হেপাটাইটিস দিবস
আষাঢ় ১৪৩৩ জুন-জুলাই ২০২৬
বর্ষাকালের প্রথম মাস আষাঢ় । এ মাসেই বৃষ্টির আগমনে প্রকৃতির সেজে ওঠে। 'আষাঢ়ের ৩০ দিন' কবিতায় বর্ষার রূপ ফুটে উঠে । এ মাসে তেমন বড় উৎসব নেই, তবে কৃষি কাজের জন্য এ মাস খুব গুরুত্বপূর্ণ।
আষাঢ় মাসের ক্যালেন্ডার:
বাংলা ক্যালেন্ডারের বিশেষ বৈশিষ্ট্য
বাংলা তারিখ গণনা নিয়ম
বাংলা দিনপঞ্জির সঙ্গে হিজরী ও খ্রিস্টীয়নের মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে। যেমন:
- হিজরি সন চলে চাঁদের সঙ্গে। তাই হিজরী সনের নতুন তারিখ শুরু হয় সন্ধ্যায় নতুন চাঁদের আগমনের মধ্য দিয়ে।
- খ্রিস্টীয় সাল চলে ঘড়ির সঙ্গে। ইংরেজি দিন শুরু হয় মধ্যরাতে।
- বাংলা সনের শুরু হয় ভোরের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে।
বাংলা পঞ্জিকায় সাধারণত ৩৬৫ দিনে ১ বছর বা এক বঙ্গাব্দ হয়। বাংলাদেশের বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রবর্তিত বাংলা তারিখ গণনার পদ্ধতি অনুযায়ী বাংলা নববর্ষের ক্যালেন্ডার ১৪৩৩ তৈরি করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের সরকারিভাবে গৃহীত বাংলা ক্যালেন্ডার।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
বাংলা নববর্ষ এখন শুধু বাংলাদেশ বা পশ্চিমবঙ্গে সীমাবদ্ধ নেই, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এর স্বীকৃতি মিলেছে। নেওয়ার্ক স্টেট সিনেট ১৪ এপ্রিলকে 'বাংলা নববর্ষ দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল নিউওয়ার্ক স্টেট এর রাজধানী আলবানীতে আনুষ্ঠানিকভাবে 'বাংলা নববর্ষ' উদযাপন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের টাইমস স্কয়ার সহ নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানে প্রবাসী বাঙালিরা পহেলা বৈশাখ উদযাপন করেন। এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত।
বাংলা নববর্ষের ক্যালেন্ডার ১৪৩৩-এর ছুটির তালিকা
বাংলা নববর্ষের ক্যালেন্ডার ১৪৩৩-এ বেশ কিছু সরকারি ও ধর্মীয় ছুটি রয়েছে।
নিচে গুরুত্বপূর্ণ ছুটির তালিকা দেওয়া হলো:
| ছুটির দিন |
বাংলা তারিখ |
ইংরেজি তারিখ |
দিন |
| পহেলা বৈশাখ |
১৪ এপ্রিল ২০২৬ |
১৪ এপ্রিল ২০২৬ |
মঙ্গলবার |
| মে দিবস |
১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ |
১ মে ২০২৬ |
শুক্রবার |
| বুদ্ধ পুর্ণীমা |
২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ |
১২ মে ২০২৬ |
বুধবার |
| ঈদুল আযহা |
২২-২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ |
৫-৯ জুন ২০২৬ |
শুক্র - মঙ্গল |
| জন্মাস্টমী |
১ ভাদ্র ১৪৩৩ |
১৬ আগস্ট ২০২৬ |
রবিবার |
| ঈদে মিলাদুন্নবী* |
২১ ভাদ্র ১৪৩৩ |
৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
শনিবার |
| দুর্গাপুজা ( বিজয় দশমী) |
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ |
২ অক্টোবর ২০২৬ |
শনিবার |
| বিজয় দিবস |
১ পৌষ ১৪৩৩ |
১৬ ডিসেম্বর ২০২৬ |
বুধবার |
| বড় দিন |
১০ পৌষ ১৪৩৩ |
২৫ ডিসেম্বর ২০২৬ |
শুক্রবার |
| ইংরেজি নববর্ষ |
১৭ পৌষ ১৪৩৩ |
১ জানুয়ারী ২০২৭ |
শুক্রবার |
| শহীদ দিবস |
৮ ফাল্গুন ১৪৩৩ |
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ |
রবিবার |
*চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল
ডিজিটাল ক্যালেন্ডারের সুবিধা
বর্তমানে বাংলা নববর্ষের ক্যালেন্ডার ১৪৩৩ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমেও পাওয়া
যাচ্ছে। গুগল প্লে স্টোরে বেশ কিছু বাংলা ক্যালেন্ডার অ্যাপ রয়েছে। এসব
অ্যাপের বৈশিষ্ট্য:
- বাংলা ছুটির ক্যালেন্ডার
- শুভ বিবাহের দিন ও লগ্ন
- পঞ্জিকা সহ বাংলা ক্যালেন্ডার
- রাশিফল সহ বাংলা ক্যালেন্ডার
- প্রতি মাসে রোজা রাখার তথ্য
- হিন্দু, ইসলামী ও খ্রিস্টান ছুটির তালিকা
ডিজিটাল ক্যালেন্ডার এর ব্যবহারের মাধ্যমে যেকোনো সময় যে কোন জায়গায় বাংলা
তারিখ ও বিশেষ দিবস সম্পর্কে জানা সম্ভব হচ্ছে.
উপসংহার
বাংলা নববর্ষের ক্যালেন্ডার ১৪৩৩ শুধু তারিখ গণনার একটি মাধ্যম
নয়, এটি বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক।
সম্রাট আকবরের সময় থেকে শুরু করে বর্তমান ডিজিটাল যুগ পর্যন্ত এই
ক্যালেন্ডার বাঙালির জীবন যাপনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
বাংলা সনের প্রতিটি মাসের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। বৈশাখের বর্ষবরণ থেকে শুরু
করে জ্যৈষ্ঠের খরতাপ, আষঢ়-শ্রাবণের বৃষ্টি, ভাদ্র -আশ্বিনের
শরৎ, অগ্রহায়নের নবান্ন, পৌষ -মাঘের শীত ও
পিঠাপুলি, ফাল্গুনের বসন্ত, আর চৈত্রের গ্রীষ্ম
- প্রতিটি ঋতু ও মাস বাঙালির জীবনকে নতুন করে সাজায়।
পহেলা বৈশাখ বাঙালির অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক। এই দিনটি
আমাদের সংকীর্ণতা, কুসংস্কার পরিহার করে উদারনৈতিক জীবন-ব্যবস্থা
গড়তে উদ্বুদ্ধ করে । বাংলা নববর্ষের ক্যালেন্ডার ১৪৩৩ আমাদের সামনে
নিয়ে আসে নতুন সম্ভাবনা, নতুন স্বপ্ন আর নতুন উদ্যমে বেঁচে থাকার
অনুপ্রেরণা।
আসুন আমরা সবাই বাংলা নববর্ষের ক্যালেন্ডার ১৪৩৩-এর প্রতিটি দিনকে
নতুন করে বাঁচি, নতুন করে উদযাপন করি। পুরনো বছরের ভুল ত্রুটি ভুলে নতুন
বছরকে সাদরে বরণ করে নিই।
সবাইকে আগামী পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩-এর শুভেচ্ছা। জানাই শুভ নববর্ষের প্রীতি ও
শুভকামনা।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url