রিজিক কী? রিজিক পাওয়ার দোয়া ও আমল

রিজিক: অর্থ, গুরুত্ব এবং রিজিক বৃদ্ধির দোয়া ও আমল

ভূমিকা

রিজিক - এর শব্দটি মুসলিম জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।রিযিক একটি আল্লাহর অশেষ নেয়ামত। প্রতিটি মানুষের জীবনে কখনো না কখনো এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়: আমার রিজিক কোথায়? কখন আসবে? কতটুকু আসবে? ইসলাম এই প্রশ্নের অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও সন্তোষজনক উত্তর দিয়েছে। 

রিজিক কী রিজিক পাওয়ার দোয়া ও আমল

আল্লাহ তাআলা প্রতিটি সৃষ্টির রিজিক নির্ধারণ করে রেখেছেন এবং তা যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও তিনি নিজেই নিয়েছেন। 

এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব রিজিক কী, এর ধরন কী কিী, ইসলামের দৃষ্টিতে রিজিকের ধারণা কেমন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাবে - রিজিক বৃদ্ধির জন্য কুরআন-হাদিসে কী দোয়া ও আমলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।    

 রিজিক কি? - শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ

আরবি রিজিক শব্দটির শাব্দিক অর্থ হলো: জীবিকা, জীবন ধারণের উপকরণ. প্রদত্ত বস্তু বা অনুগ্রহ। মূল ধাতু 'রাযাকা' থেকে উৎপন্ন এ শব্দটি কুরআনে বহুবার উল্লেখিত হয়েছে। 

পারিভাষিক অর্থের রিজিক বলতে বোঝায়: আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের জন্য কিছু বরাদ্দ রেখেছেন - খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, স্বাস্থ্য, সম্পদ, জ্ঞান, সন্তান-সম্পতি এমনকি মানসিক শান্তি পর্যন্ত সবকিছু। অর্থাৎ রিজিক কেবল অর্থ-সম্পদে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি ব্যাপক ধারণা।  

আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন: "আর পৃথিবীতে এমন কোন বিচরণকারী প্রাণী নেই, যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহুর উপর নেই।" (সূরা হুদ-৬) এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, মানুষ থেকে শুরু করে ক্ষুদ্রতম পিপীলিকা পর্যন্ত সকলের রিজিকের ব্যবস্থা আল্লাহ নিজেই করেন।

রিজিকের প্রকারভেদ

আলেমগণ রিজিক কে বিভিন্ন ভাবে ভাগ করেছেন। প্রধান দুটি ভাগ হলো:

১.বাহ্যিক রিজিক (রিজিকে জাহেরী)

এটি হলো দৃশ্যমান ও বস্তুগত রিজিক। যেমন: খাদ্য, পানীয়, অর্থ-সম্পদ, ঘরবাড়ি, পোশাক ইত্যাদি। মানুষ সাধারণত রিজিক বলতে এটিকেউ বোঝে। কিন্তু এটি রিজিকের কেবল একটি অংশ। 

২.আত্মিক রিজিক (রিজিকে বাতেনি )

এটি হলো অদৃশ্য ও আত্মিক রিজিক। যেমন ঈমান, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, আত্মিক- প্রশান্তি, ভালোবাসা, সুস্বাস্থ্য, নেক সন্তান এবংদ্বীনের সঠিক বোঝাপড়া। এই রিজিক অনেক সময় বস্তুগত রিজিকের চেয়ে বেশি মূল্যবান। অনেক ধনী মানুষ আছে যার প্রচুর বস্তুগত রিজিক আছে, কিন্তু মানসিক শান্তি নেই - এটি আত্মিক রিজিকের অভাব। 

৩. নির্ধারিত ও অতিরিক্ত রিজিক

আলেমগণ রিজিককে আরেকভাবে ভাগ করেন - মূল বা নির্ধারিত রিজিক এবং অতিরিক্ত রিজিক। নির্ধারিত রিজিক প্রতিটি মানুষের জন্য তকদিরে লেখা থাকে, এটি কম বেশি হওয়ার নয়। কিন্তু অতিরিক্ত রিজিক বান্দার দোয়া, আমল এবং কৃতজ্ঞতার বিনিময়ে আল্লাহ আরো বাড়িয়ে দেন।  

ইসলামের দৃষ্টিতে রিজিকের ধারণা

ইসলামে রিজিকের ধারণাটি কেবল জাগতিক উপার্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি ঐশী বিধান যা আল্লাহর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। কুরআন ও হাদিসের আলোকে রিজিক সম্পর্কে কয়েকটি মৌলিক আকীদা বা বিশ্বাস রয়েছে:

প্রথমত: প্রতিটি মানুষের রিজিক জন্মের আগেই নির্ধারিত। হাদিসে আছে, মাতৃগর্ভে সন্তান যখন চার মাস বয়সী হয়, তখন আল্লাহ তার আয়ু, আমল, মৃত্যু ও রিজিক লিখে দেন। (বুখারী ও মুসলিম)

দ্বিতীয়ত: রিজিক কাউকে ধোকা দেয় না। আল্লাহ যার জন্য যার নির্ধারণ করেছেন, তা অবশ্যই পৌঁছাবে। নবীজি (স.) বলেছেন, "তোমার যে রিজিক নির্ধারিত আছে, তা যদি পাহাড়ের আড়ালেও থাকে, সেটা তোমার কাছে আসবেই।"

তৃতীয়ত: রিজিকের পথ বিভিন্ন হতে পারে। একই পরিমাণ রিযিক হালাল পথেও আসতে পারে, হারাম পথেও আসতে পারে। তাই মুমিনের কাজ হলো হালাল পথে রিযিক অন্বেষণ করা।

চতুর্থ: দোয়া, তাওয়াক্কুল ও নির্দিষ্ট আমল দ্বারা রিজিকে বরকত ও প্রাচুর্য বৃদ্ধি পায়। আল্লাহতালা বলেন:  " তোমরা আমার কাছে চাও, আমি তোমাদের দেব। (সূরা মুমিন: ৬০)

রিজিক বৃদ্ধির  কুরআনি দোয়া সমূহ

কোরআন এমন অনেক আয়াত ও দোয়া রয়েছে যা রিজিক বৃদ্ধির জন্য পাঠ করা যায়। নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া উল্লেখ করা হলো:

১. সূরা তালাক, আয়াত ২-৩

সূরা তালাক, আয়াত ২-৩

অর্থ: "যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য (সংকট থেকে) বের হওয়ার পথ করে দেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দেন যা সে কল্পনাও করেনি।"

এই আয়াতটি রিজিকের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাকওয়ার বা আল্লাহ ভীতিই হল অপ্রত্যাশিত রিজিকের চাবিকাঠি। যে মানুষ আল্লাহকে ভয় করে চলে, হালাল-হারামের সীমা মেনে চলে, আল্লাহ তার রিজিকের এমন দরজা খুলে দেন যা সে কখনো ভাবেও না।

২. সূরা হুদ আয়াত ৬ 

সুরা হুদ আয়ায় ৬

অর্থ: "পৃথিবীতে এমন কোন বিচরণকারী প্রাণী নেই, যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহুর উপর নেই।"এই আয়াত আয়াত পাঠ করলে মনে গভীর আস্থা ও তাওয়াক্কুল জন্মায় যা রিজিকের পথ প্রশস্ত করে। "

৩. সূরা নূহ থেকে ইস্তিগফারের দোয়া

সূরা নূহ থেকে ইস্তিগফারের দোয়া

অর্থ: "অতঃপর আমি বললাম, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষাবেন এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে সমৃদ্ধ করবেন।" (সূরা নূহ: ১০-১২)

হযরত নুহ (আ.)  তার জাতিকে এই দোয়া শিখিয়েছিলেন। ইস্তিগফার বা তওবার মাধ্যমে রিজিক বৃদ্ধি পায় - এটি কুরআন থেকে প্রমাণিত। তাই বেশি বেশি আস্তাগফিরুল্লাহ পাঠ করা রিজিক বৃদ্ধির একটি কার্যকর আমল।

হাদিসের আলোকে রিজিক বৃদ্ধির দোয়া

👉 সকালের  দোয়া-এ-রিজিক

সকালের  দোয়া-এ-রিজিক

আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআন ওয়া রিজকান তায়্যিবান ওয়া আমালান মুতাকাব্বাল।অর্থ:হে আল্লাহ!আমি তোমার কাছে উপকারী জ্ঞান, পবিত্র রিজিক এবং কবুলযোগ্য আমলচাই।  (ইবনে মাজাহ) এই দোয়াটি ফজরের নামাজের পর পাঠকরা সুন্নাত। 

👉 রিজিকের সংকটে পাঠযোগ্য দোয়া

রিজিকের সংকটে পাঠযোগ্য দোয়া

আল্লাহুম্মাকফিনি বিহাললিকা আন হারামিকা ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াকা।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে হারামের পরিবর্তে হালাল দিয়ে পরিতৃপ্ত কর এবং তোমার দান দ্বারা তোমার ছাড়া সবার মুখপেক্ষিতা থেকে মুক্ত কর। (তিরমিজি) 

👉হযরত আলী (রা.)-এর বিখ্যাত দোয়া

হযরত আলী (রা.)-এর বিখ্যাত দোয়া


অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে দুশ্চিন্তা থেকে দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে আশ্রয় চাই এবং অক্ষমতা ও অলসতা থেকে আশ্রয় চাই। (বুখারী) ঋণের কারণে রিজিক সংকটে পড়লে এই দোয়া অত্যন্ত উপকারী।

রিজিক বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ আমল সমূহ

শুধু দোয়া নয়, রিজিক বৃদ্ধির জন্য কিছু বিশেষ আমল ও রয়েছে যা কুরআন-হাদিস দ্বারা প্রমাণিত: 

১.তাওয়াক্কুল ও কর্ম প্রচেষ্টার সমন্বয়ে

রিজিক পাওয়ার জন্য শুধু বসে থাকলে চলবে না। নবীজি (স.)  বলেছেন; "যদি তোমরা সঠিকভাবে আল্লাহর উপর ভরসা করো, তাহলে তিনি তোমাদের রিজিক দেবেন যেভাবে পাখিদের দেন। পাখি সকালে খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যায় পেট ভরে ফেরে।" (তিরমিজি) সুতরাং হালাল কাজ করা এবং আল্লাহর উপর নির্ভর করা - এ দুইয়ের সমন্বয়ই হলো রিজিকের মূলনীতি।  

২.সিলাতুর রাহিম - আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি চায় তার রিজিকে প্রশস্ততা  তা আসুক এবং আয়ু দীর্ঘ হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।" (বুখারী ও মুসলিম) আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহার করা রিজিকে বরকত আনে - এটি হাদিস দ্বারা দৃঢ়ভাবে প্রমাণিত।

৩.সদকা বা দান করা 

অনেকের মনে হয়, দান করলে সম্পদ কমে। কিন্তু আল্লাহু বলেন; "তোমরা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করো, তোমাদের জন্যই এটা কল্যাণকর।"  (সূরা বাকারা; ২২৭) হাদিসে রয়েছে সদকা আল্লাহর হাতে পড়ে এবং আল্লাহ তা বাড়িয়ে দেন যেভাবে কেউ ঘোড়া লালন -পালন করে। দানশীল মানুষের রিজিকে বরকত আসে - এটি বাস্তব অভিজ্ঞতা ও হাদীসের সত্য।  

৪. শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা

আল্লাহ তাআলা বলেন: যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদের আরো বেশি দেব। আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তাহলে জেনে রাখ আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর।" (সূরা ইব্রাহীম: ৭) প্রতিটি নামাজের পর 'আলহামদুলিল্লাহ' এবং প্রতিটি নিয়ামত পাওয়ার সময় 'শুকরান লিল্লাহ' বলার অভ্যাস গড়ে তুললে রিজিকে বরকত বাড়ে।

৫.ফজরের নামাজ - রিজিকের দরজা

নবীজি (স.) বলেছেন: "ফজরের নামাজ আদায় করো, কারণ ফজরের ওয়াক্তে রিজিক বন্টন করা হয়।" (তাবারানি)  সকাল সকাল উঠে ফজরের নামাজ পড়া এবং সূর্যোদয়ের আগে পর্যন্ত দোয়া ও রিজিক মশগুল থাকা রিজিকে অকল্পনীয় বরকত আনে। স  

৬. বিসমিল্লাহ বলে কাজ শুরু করা

প্রতিটি হালাল কাজ শুরু করার আগে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলা শুধু সুন্নতই নয়, এটি কাজে বরকত আনে। হাদিসে রয়েছে, যে কাজ বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু না হয় সে কাজ অসম্পূর্ণ। বিসমিল্লাহ বললে শয়তান দূরে সরে যায় এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত নামতে থাকে। 

৭. ইস্তিগফার বা তওবা করা 

পাপ মানুষের রিজিক বন্ধ করে দেই। নবীজি (স.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই বান্দা তার পাপের কারণে রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়।" (ইবনে মাজাহ) তাই বেশি বেশি তওবা-ইস্তিগফার করলে পাপ দূর হয় এবং রিজিকের পথ খুলে যাই। দিনে অন্তত ১০০ বার 'আস্তাগফিরুল্লাহ' পাঠ করা একটি অত্যন্ত কার্যকর আমল।   

রিজিক সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা ও সঠিক বিশ্বাস

সমাজে রিজিক নিয়ে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যা ইসলামের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়:

ভুল ধারণা ১: "অধিক পরিশ্রম করলেই, বেশি রিজিক পাওয়া যায়।" - সত্য হলো, পরিশ্রম রিজিকের উপায়, কারণ নয়। রিজিক দেন আল্লাহ। পরিশ্রম হলো সেই মাধ্যম যে পথে রিজিক আসে।  

ভুল ধারণা ২: "হারাম পথে বেশি রিজিক আসে।" - এটি সম্পূর্ণ ভুল। হারাম পথে আসা সম্পদ বরকত থাকে না। সে সম্পদ মানুষকে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত করে।

ভুল ধারণা ৩:. "দান করলে সম্পদ কমে যায়।" কোরআন ও হাদিসে বারবার বলা হয়েছে দান করলে রিজিকে বরকত আসে। আল্লাহ দানকারীর সম্পদ কখনো কমতে দেন না।

ভুল ধারণা ৪: "আমার রিজিক কম, তাই আমি দুর্ভাগা।" - রিজিকের পরিমাণ আল্লাহর হিকমতের উপর নির্ভরশীল। অল্প রিজিকের যে শুকরিয়া আদায় করে, সে অনেক বেশি সুখী থাকে অকৃতজ্ঞ ধনীর চেয়ে।

রিজিকে বরকত আনার বিশেষ উপায়

রিজিক শুধু বেশি পাওয়াই যথেষ্ট নয়, সে রিজিকে বরকত থাকাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বরকত মানে হলো অল্পে বেশি ফায়দা পাওয়া। কয়েকটি বিষয় রিজিকে বরকত আনে:

হালাল উপার্জন: শুধুমাত্র হালাল পথে রিযিক অন্বেষণ করা। হালাল রিজিকে বরকত থাকে, হারামে থাকে না।   

খাওয়ার আগে পরে দোয়া: খাবার খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ এবং পরে আলহামদুলিল্লাহ বলা। এতে খাবারের বরকত আসে।

সততা ও আমানতদারিতা: ব্যবসায় সততা বজায় রাখলে রিজিকে বরকত আসে।নবীজি (স). বলেছেন, সৎ ব্যবসায়ী কেয়ামতে নবী ও শহীদদের সাথে থাকবে।   

অপচয় না করা: আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমরা খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না।" (সূরা আরাফ: ৩১) অপচয় রিজিকের বরকত নষ্ট করে।  

সুবহে সাদিক জাগ্রত থাকা: ভোরবেলা উঠে ইবাদতে মশগুল থাকা রিজিকে অফুরন্ত বরকত আনে। আলেমরা বলেন, যে ব্যক্তি ফজরের পর ঘুমায়, তারি দিকে বরকত হ্রাস পায়।

রিজিক বৃদ্ধির জন্য বিশেষ সূরা ও জিকির

সূরা ওয়াকিয়া তেলাওয়াত

হযরত ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (স.)বলেছেন: "যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা ওয়াকিয়া তেলাওয়াত করে, সে কখনো দারিদ্র্য পড়বে না।" তাই প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে সূরা ওয়াকিয়া পাঠ করা রিজিক বৃদ্ধির একটি প্রমাণিত আমল।

সুরা মূলক ও সূরা ইয়াসিন

সুরা মুলক প্রতিরাতে পড়লে কবরের আজাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং জীবনে আল্লাহর বিশেষ রহমত নাযিল হয়। সুরা ইয়াসিন সকালে পড়লে সেই দিনের সকল প্রয়োজন আল্লাহ পূরণ করেন বলে হাদিসে উল্লেখ আছে। 

দরুদ শরীফ ও রিজিকের সম্পর্ক

নবীজি (স.)- এর উপর দরুদ পাঠ করলে আল্লাহতালা বান্দার উপর ১০ টি রহমত নাজিল করেন। রহমত নাযিল হলে রিজিকেও বরকত আসে। তাই দৈনিক অন্তত ১০০ বার দরুদ পড়া উচিত। বিশেষত দরুদে ইব্রাহিম পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলত পূর্ণ। 

উপসংহার

রিজিক আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহান নেয়ামত। প্রতিটি মানুষের রিজিক নির্ধারিত, কিন্তু দোয়া, আমল ও তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে সে রিজিককে বরকত ও প্রাচুর্য বাড়ানো সম্ভব। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে যে রিজিক নিয়ে হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই - আল্লাহ রাজ্জাক, তিনি রিজিকদাতা এবং তিনিই সর্বোত্তম রিজিকদাতা। 

তাই আমাদের করণীয় হলো; হালাল পথে উপার্জন করা, নিয়মিত নামাজ আদায় করা, বেশি বেশি ইস্তিগফার করা, দান -সদকা করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা এবং সর্বদা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। এই আমলগুলো পালন করলে আল্লাহ তাআলা আমাদের রিজিককে অবশ্যই বরকত দেবেন ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে হালাল রিজিক দান করুন, আমাদের রিজিকে বরকত দিন এবং আমাদেরকে রিজিক নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার তাওফিক দিন। আমিন।

 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url