লেহেঙ্গা আর শিফন ফ্রকেই বাহারি ঈদ

ভূমিকা: ঈদের প্রস্তুতি ও ফ্যাশনের অগ্রগামীতা

আসছে খুশির ঈদ। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর পুরস্কার হিসেবে এ আনন্দের বার্তা। ঈদের আনন্দকে দ্বিগুণ করার জন্য নতুন পোশাকে জুড়ি মেলা ভার। তাইতো ঈদকে ঘিরে ফ্যাশন জগত হয়ে ওঠে বর্ণিল। আর এই বর্ণিল আয়োজনে সবার আগে আসে মেয়েদের পোশাকের হিসাব-নিকাশ। এই বছর ও তার ব্যতিক্রম নয়। এই বছর মনে হচ্ছে লেহেঙ্গা আর শিফন ফ্রকেই বাহারি ঈদ-এর প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠবে।
লেহেঙ্গা আর শিফন ফ্রকেই  বাহারি ঈদ

আপনি যদি ভাবেন ঈদের দিন কি পড়বেন, তাহলে একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন। আমরা এখানে আলোচনা করব কিভাবে একটি সাধারণ লেহেঙ্গা বা শিফন ফ্রককে অনন্য করে তোলা যায়। চলুন,  তাহলে শুরু করা যাক।

লেহেঙ্গা: ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় আধুনিকতার মেলবন্ধন

বাঙালি মেয়েদের ঈদ মানেই যেন এক টুকরো ঐতিহ্যের ছোঁয়া। এই ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো লেহেঙ্গা। শাড়ির পরেই সম্ভবত লেহেঙ্গার কদর সবচেয়ে বে... কিন্তু সময় বদলেছে, ডিজাইনেও এসেছে বৈচিত্র। একসময় লেহেঙ্গা মানেই ছিল এবং শুধু বিয়ের অনুষ্ঠানে ব্যবহার। কিন্তু এখন লেংগা হয়ে উঠেছে ঈদের অন্যতম পছন্দের পোশক। 

লেহেঙ্গা ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় আধুনিকতার মেলবন্ধন


লেহেঙ্গার প্রকারভেদ:

  • প্যানেল লেহেঙ্গা: আধুনিক তরুণীদের মধ্যে প্যানেল লেহেঙ্গা জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। এতে থাকে একাধিক প্যানেল যা দেখতে অনেকটা ঘাগড়ার মত।
  • পার্টিওয়্যার লেহেঙ্গা: ঈদের পার্টি বা আত্মীয়দের বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার জন্য পার্টি ওয়্যার লেহেঙ্গা খুবই উপযোগী।
  • কটন লেহেঙ্গা: আরামপ্রিয় মেয়েদের জন্য কটন লেহেঙ্গা হতে পারে সেরা পছন্দ।

কিভাবে স্টাইল করবেন:

একটি সাধারণ লেহেঙ্গাকে অসাধারণ করে তোলা যায় সঠিক ব্লাউজ ডিজাইনে । হাইনেক ব্লাউজ বা ব্যাকলেস ব্লাউজ এর সঙ্গে লেহেঙ্গা পরলে লুক হবে দারুন। আর হাতে যদি কিছু ম্যাচিং চুড়ি আর কানের দুল থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। এভাবে লেহেঙ্গা আর শিফন ফ্রকেই বাহারি ঈদ-এর লুক তৈরি করতে পারেন। 

শিফন ফ্রক: রুপের যাদুতে সবার নজের কাড়ূন 

শিফন ফেব্রিক সব সময়ই মেয়েদের প্রিয়। এর পাতলা, হালকা ওজনের গুনাগুন এবং সহজে ঢলে পড়ার প্রবণতা পোশাকে একটি অভিযাত সৌন্দর্য যোগ করে। ঈদের সকালে শিফনের ফ্রক পরে যদি বের হন, তাহলে সারা দিনই নিজের মধ্যে একটা ভিন্নতা অনুভব করবেন।

শিফন ফ্রক রুপের যাদুতে সবার নজের কাড়ূন


শিফন ফ্রক এর ডিজাইন ট্রেন্ড:

  • ফ্লোরাল প্রিন্ট: ফুলের ছাপ দেওয়া শিফন ফ্রক ঈদের দিনের জন্য খুবই মানানসই। 
  • অ্যাবস্ট্যাক্ট প্রিন্ট : আধুনিক এবং শিল্প-সম্মত ডিজাইন যারা পছন্দ করেন, তাদের জন্য অ্যাবস্ট্যাক্ট প্রিন্ট আদর্শ।
  • এমব্রয়ডারি করা শিফন:  হালকা জারি বা কামানের কাজ করা শিফন ফ্রক একসঙ্গে সাদামাটা এবং জমকালো উভয়ই।

ফ্রকের স্টাইলিং টিপস:

শিফন ফ্রকের সঙ্গে বেল্ট ব্যবহার করে কোমরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলতে পারেন। ফ্রক যদি লং হয়ে থাকে, তাহলে স্টিলেটোর  বদলে স্যান্ডেল পরাই  ভালো দেখায়। এছাড়া, ফ্রকের সঙ্গে ছোট ছোট কানের দুল এবং ক্লাচ ব্যাগ ব্যবহার করলে লুক সম্পূর্ণ হয়। এককথায়, এই টিপসগুলো মনে রাখলে লেহেঙ্গা আর শিফন ফ্রকেই বাহারি ঈদ হয়ে ওঠবে।

রং ও ডিজাইনের খেলা: ঈদে রঙিন হওয়ার মন্ত্র

ঈদের পোশাকে রঙের গুরুত্ব অপরিসীম। আপনি  কি ধরনের পোশাক পরছেন, তার চেয়ে বড় বিষয় হলো আপনি কোন রং পরছেন। এই বছর ঈদে কোন রং গুলো ট্রেন্ডে থাকবে, চলুন জেনে নেওয়া যাক।  

ঈদের জন্য প্রস্তাবিত রং

  • পেস্টেল রং: পেস্টেল গোলাপি, মিন্ট গ্রিন, লেভেন্ডার-এই রং গুলো এই মৌসুমের জন্য দারুন।। শিফন ফ্রকের ক্ষেত্রে এই রং গুলো অপরূপ দেখায়।
  • গাঢ় রং: বোতল গ্রীন,  ওয়াইন রেড, নেভিব্লু, - এই রংগুলো লেহেঙ্গার ক্ষেত্রে খুব মানানসই। গা dark রঙের লেহেঙ্গাই জরির কাজ বেশি ফুটে ওঠে।
  • মেটালিক শেড: গোল্ডেন,  সিলভার- পার্টি লুকের জন্য মেটালিক রং হতে পারে সেরা পছন্দ।

ডিজাইনে কি থাকছে:

  • গোটা পাত্তি এবং মুকেশ কাজ
  • থ্রিডি ফ্লোরাল এমব্রয়ডারি
  • সিকুইন্স ও স্টোন বসানো কাজ

এই ট্রেন্ডি ডিজাইন ও রং বাছাই করলে যে কোন পোশাকই সেরা হয়ে ওঠে। ফলে ঈদের দিন আপনাকে সেরা দেখাতে বাধ্য। নিশ্চিতভাবেই , লেহেঙ্গা আর শিফন ফ্রকেই  বাহারি ঈদ সাজিয়ে তুলবে। 

অনলাইন শপিং: বাড়িতে বসেই কেনাকাটা

বর্তমানে অনলাইন শপিং আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। ঈদের ব্যস্ততার মধ্যে বাজার ঘুরে পোশাক কেনা অনেক সময় সম্ভব হয় না। তাই অনলাইন প্লাটফর্ম হতে পারে আপনার ভরসা। 

কেন অনলাইনে কেনাকাটা করবেন:

  • সময় বাঁচে: বাড়িতে বসে হাজারো ডিজাইন দেখতে পারেন। 
  • মূল্যের তুলনা: বিভিন্ন ওয়েবসাইটে পণ্যের দাম দেখে সহজেই তুলনা করতে পারেন। 
  • হোম ডেলিভারি: পোশাক চলে আসবে আপনার দরজায়। 

অনলাইনে লেহেঙ্গা আর শিফন ফ্রকেই বাহারি ঈদ-এর জন্য নানান কালেকশন পেয়ে যাবেন।মাইশোপি, দারাজ, অজানগড়-এর মত প্ল্যাটফর্ম গুলোতে ঈদ স্পেশাল কালেকশন দেখে নিতে পারেন। অর্ডার দেওয়ার আগে সাইজ গাইড এবং রিটার্ন পলিসি ভালো করে দেখে নিবেন।

আনুষাঙ্গিক: সাজের শেষ স্পর্শ

পোশাক যতই সুন্দর হোক না কেন, সঠিক আনুষাঙ্গিকের অভাবে তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাই পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং গয়না ও ব্যাগ ব্যবহার করা জরুরী।

গয়না:

  • ইমিটেশন জুয়েলারি: লেহেঙ্গার সঙ্গে কুন্দন বা মিনাকারি কাজ করা গয়না অসাধারণ মানায়।
  • মিনিমালিস্ট জুয়েলারি: শিফন ফ্রকের এর সঙ্গে ছোট ছোট সোনালী বা রূপালী চেইন ও কানের দুল অনেক ক্লাসি  দেখায়।
  • পার্ল: মুক্তোর গয়না যে কোন পোশাকের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়।
ব্যাগ ও জুতা:

লেহেঙ্গার সঙ্গে পটলি ব্যাগ বা ক্লাচ ব্যবহার করবেন। অন্যদিকে, শিফন ফ্রকের সঙ্গে স্ট্রাপযুক্ত স্যান্ডেল বা হিল ভালো মানায়।আর হ্যাঁ , পায়ে আলতা পরতেও ভুলবেন না। এতেই শেষ হয় আপনার সাজ। এভাবেই সাজলে লেহেঙ্গা আর শিফন ফ্রকেই বাহারি ঈদ এই বক্তব্য প্রমাণিত হবে। 

পুরুষদের জন্যও কিছু টিপস

ঈদের আনন্দে মেয়েরা যেমন সেজে ওঠেন, তেমনই পুরুষেরাও থাকেন পিছিয়ে নয়।  বরং এবছর পুরুষদের ফ্যাশনেও এসেছে বড় পরিবর্তন। 

পুরুষদের ট্রেন্ডি পোশাক:

  • কাপ্তান: কাপ্তান এখন পুরুষদের মধ্যেও সমান জনপ্রিয়। আরামদায়ক এবং স্টাইলিশ।
  • শেরওয়ানি: ক্লাসিক লুকের জন্য শেরওয়ানি কিন্তু জরুরী। বিশেষ করে নামাজের পর আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার জন্য।
  • পাঞ্জাবিউ-পায়জামা: ঐতিহ্যবাহী এইপোশাক তো আছেই। এবার একটু ভিন্নতার জন্য ভারী কাজ করা পাঞ্জাবি বেছে নিতে পারেন।
আপনার পোশাক যত সুন্দর হোক, সেটা যদি আপনার মনের মত না হয়, তাহলে সে আনন্দ অধরা থেকে যায়। তাই সময় থাকতেই পছন্দের পোশাকটি কিনে ফেলুন। আর হ্যাঁ,  ঈদের দিন সকালে ফ্রেশ লুকের জন্য ভালো মানের পারফিউম ব্যবহার করতেও ভুলবেন না। 

উপসংহার: সাজুক ঈদের আনন্দ

আমাদের আলোচনার শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। এই পুরো আর্টিকেলে আমরা দেখলাম কিভাবে একটি সাধারণ পোশাককে বিশেষ করে তোলা যায়। লেহেঙ্গা হোক বা শিফন ফ্রক, সঠিক স্টাইলিং এবং আনুষাঙ্গিক এর ব্যবহার একে করে তুলে অনন্য। মনে রাখবেন, ফ্যাশন শুধু পোশাকের নাম নয়, এটা নিজেকে প্রকাশের একটি মাধ্যম। তাই ঈদের দিনে নিজেকে সেভাবেই প্রকাশ করুন। সাজন, কাটুন, আর সবাইকে জানান ভালোবাসা।

পরিশেষে বলতে চাই, লেহেঙ্গা আর শিফন ফ্রকেই বাহারি ঈদ হয়ে ওঠে যখন আমরা তা নিজের মতো করে সাজাই। তাই নিজের স্টাইলকে গুরুত্ব দিন। ঈদের এই আনন্দময় দিনটি হোক আপনার জীবনের সেরা দিন। ঈদের আগাম শুভেচ্ছা রইল সবার জন্য। সাবধান থাকুন, ভালো থাকুন, আর নিজের সাজে সবার মন জয় করুন। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url