স্মার্টফোনে ছবি এডিট করার সেরা অ্যাপসমূহ

 

আমরা এখন ডিজিটাল যুগে বাস করছি, যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সকালে নাস্তা থেকে শুরু করে রাতের শহরের আলো, ঘুরতে যাওয়া থেকে শুরু করে বিশেষ অনুষ্ঠান - প্রায় সবকিছুই আমরা স্মার্টফোন দিয়ে ছবি তুলি। কিন্তু তোলা ছবি অনেক সময় ঠিক সেই মুহূর্তের আবেদন ফুটিয়ে তোলে না। আলো কম ছিল, রং বিবর্ণ হয়ে গেছে, বা ছবিতে অপ্রয়োজনীয় কিছু অংশ চলে এসেছে - এমন সমস্যা প্রায়ই হয় ।

স্মার্টফোনে ছবি এডিট করার সেরা অ্যাপসমূহ


ঠিক এখানেই কাজে আসে স্মার্টফোনে ছবি এডিট করার সেরা অ্যাপসমূহ। এই অ্যাপ গুলোর সাহায্যে আপনি আপনার সাধারণ একটি ছবিকে অসাধারণ করে তুলতে পারেন। মাত্র কয়েকটি  ট্যাপেই ছবির উজ্জ্বলতা বাড়ানো, রং পরিবর্তন, ব্যাকগ্রাউন্ড মুছে ফেলা, এমনকি প্রফেশনাল মানে ডিজাইন তৈরি করা সম্ভব।

আজকের এই বিস্তারিত আর্টিকেলে আমরা জানবো স্মার্টফোনের ছবি এডিট করার সেরা অ্যাপসমূহ সম্পর্কে। কোন অ্যাপটি আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে, কিভাবে এগুলো ব্যবহার করবেন, এবং ছবি এডিটিংয়ের কিছু দারুন টিপস - সবকিছু থাকবে এখানে। 

পেজ সূচিপত্রে কিভাবে স্মার্ট ফোনে ছবি এডিট করা যায় তা নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা

 কেন স্মার্টফোনে ছবি এডিট করা জরুরী ?

ছবি তোলার পর সেটিকে আর ও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য এডিটিং অপরিহার্য। ডিএসএলআর ক্যামেরা হোক বা স্মার্টফোন - তোলা ছবিতে কিছু না কিছু উন্নতির সুযোগ থাকে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করার আগে এডিটিং প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ছবি এডিটিং কেন জরুরী, তার কয়েকটি কারণ দেখি:

 ১. আলো ও রঙের সমন্বয়: অনেক সময় ছবি তোলার সময় ভালো ঠিকমতো না পড়ায় ছবির বিবর্ণ অতিরিক্ত উজ্জ্বল হয়ে যায়। এডিটিং অ্যাপ দিয়ে আপনি এক্সপোজার, কনট্রাস্ট, স্যাচুরেশন ইত্যাদি সহজে ঠিক করতে পারেন। 

২. অবাঞ্ছিত অংশ অপসারণ: ছবিতে এমন কিছু থাকতে পারে যা আপনি রাখতে চান না - পেছনের মানুষ, কোন ময়লা বা অপ্রয়োজনীয় জিনিস। ক্রপ বা ক্লোন টুল  দিয়ে সেগুলো সরিয়ে ফেলা যায়।

৩. সৃজনশীলতা প্রকাশ: এডিটিংয়ের মাধ্যমে আপনি আপনার নিজস্ব ইস্টাইল তৈরি করতে পারেন। ফিল্টার, ইফেক্ট, টেক্সট যোগ করে ছবিকে আরও ব্যক্তিগত করে তুলতে পারেন।

৪. সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য প্রস্তুতি: ইনস্টাগ্রাম, ফেইসবুক বা টিকটক এর জন্য আলাদা সাইজের এবং মানের ছবি দরকার হয়। এডিটিং অ্যাপ দিয়ে সেটি সহজেই করা যায়।

এখন প্রশ্ন হল, বাজারে এত রকমের অ্যাপ থাকলে কোন গুলো সত্যি সেরা ? চলুন জেনে নেই স্মার্টফোনে ছবি এডিট করার সেরা অ্যাপসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত। 

স্মার্টফোনে ছবি এডিট করার সেরা অ্যাপসমূহ: বিস্তারিত তালিকা

স্মার্টফোনে ছবি এডিট করার সেরা অ্যাপসমূহ বিস্তারিত তালিকা

1. Adobe Lightroom: প্রফেশনালদের প্রথম পছন্দ

অ্যাডোব লাইটরুম নামটি ছবি এডিটিং এর জগতে খুবই পরিচিত। এটি মূলত কম্পিউটারের জন্য তৈরি হলেও বর্তমানে এর মোবাইল ভার্সন এতটাই শক্তিশালী যে অনেক প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার ও স্মার্টফোনে এই অ্যাপ ব্যবহার করেন।

মূল বৈশিষ্ট্য সমূহ:

  • RAW ফাইল এডিটিং এর সুবিধা
  • প্রিসিস কন্ট্রোলের জন্য কার্ড  অ্যাডজাস্টমেন্ট
  • প্রিসেট ব্যবহারের মাধ্যমে এক ক্লিকে ইফেক্ট
  • সিলেক্টিভ এডিটিংয়ের জন্য ব্রাশ ও গ্রাজুয়েটেড ফিল্টার 
  • হাই-এন্ড নয়েজ রিডাকশন

কিভাবে ব্যবহার করবেন:

লাইট রুম ব্যবহার করা খুব সহজ। ছবি ওপেন করার পর নিচে টুলবার থেকে বিভিন্ন অপশন পাবেন। লাইট অপশন দিয়ে উজ্জ্বলতা, কনট্রাস্ট, হাইলাইটস, শ্যাডো অ্যাডজাস্ট করতে পারেন। কালার অপশন দিয়ে রঙের স্যাচুরেশন ও হিউ পরিবর্তন করতে পারবেন। ইফেক্ট অপশন থেকে টেক্সচার, ক্লারিটি ও ডিহেজ যোগ করতে পারেন।

সুবিধা:

  • সম্পূর্ণ ফ্রি ভার্সনে অনেক ফিচার পাওয়া যায়
  • প্রফেশনাল মানের আউটপুট
  • ক্লাউড স্টোরেজের সাথে  সিঙ্ক করার সুবিধা

অসুবিধা:

  • কিছু প্রিমিয়ার ফিচারের জন্য মাসিক ফি দিতে হয়
  • নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য একটু জটিল মনে হতে পারে

২.Sanpseed: গুগলের সেরা উপহার

গুগলে তৈরি Sanpseed বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছবি এডিটিং অ্যাপগুলোর একটি। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি হওয়ায় এবং প্রচুর ফিচার থাকায় সবার কাছেই এটি প্রিয়। স্মার্টফোনে ছবি এডিট করার সেরা অ্যাপসমূহ এর তালিকায় এর অবস্থান প্রথম সারিতে।  

মূল বৈশিষ্ট্য সমূহ:

  • ২৯ টি টুল ও ফিল্টার
  • সিলেক্টিভ অ্যাডজাস্টমেন্টের জন্য পয়েন্ট কালার
  • হিলিং ব্রাশ দিয়ে ছবির দাগ মুছতে পারেন
  • ডবল এক্সপোজার ইফেক্ট
  • ফেস Enhance দিয়ে  পোট্রের্ট  এডিটিং

কিভাবে ব্যবহার করবেন:

ওপেন করলে "স্টাইল" ও" টুলস" নামে দুটি প্রধান অপশন দেখতে পাবেন। স্টাইল থেকে প্রি-মেইড ফিল্টার ব্যবহার করতে পারেন। টুলস অপশনে গেলে সব ধরনের এডিটিং টুল পাবেন। টিউন ইমেজ দিয়ে মৌলিক এডিটিং, ডিটেইলস দিয়ে শার্ফনেস, ক্রপ ও রোটেট দিয়ে ছবি আকার পরিবর্তন করতে পারেন।

সুবিধা:

  • সম্পূর্ণ ফ্রি, কোন ইন-অ্যাপ পারচেজ নেই
  • ব্যবহার করা খুব সহজ
  • সব ধরনের এন্ড্রয়েড ও আইফোনে কাজ করে

অসুবিধা:

  • স্টোরেজ ম্যানেজমেন্ট ভালো না 
  • কিছু পুরানো ডিভাইসে স্লো হতে পারে

৩.Picsart: সব-ইন-ওয়ান এডিটিং সলিউশন

পিকসআর্ট শুধু একটি ছবি এডিটিং অ্যাপ নয়, এটি একটি সম্পূর্ণ ডিজাইন প্ল্যাটফর্ম। ছবি এডিটিংয়ের পাশাপাশি  কলাজ  তৈরি, ডিজাইন করা, এমনকি ভিডিও এডিটিং ও করা যায় এখানে।

মূল বৈশিষ্ট্য সমূহ:

  • হাজার হাজার ফিল্টার ও ইফেক্ট
  • ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ করার সুবিধা
  • স্টিকার ও টেক্সট যোগ করার অপশন
  • এ আই-চালিত ইমেজ জেনারেশন
  • রিমিক্স চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণ

কিভাবে ব্যবহার করবেন:

Picsart খুললে অনেকগুলো অপশন দেখতে পাবেন। নিচের দিকে " এডিট" অপশনে ক্লিক করে ছবি নির্বাচন করুন। এরপর নিচের টুলবার থেকে ক্রপ, এডজাস্ট, ফিল্টার, ইফেক্ট ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারবেন। "রিমুভ ব্যাকগ্রাউন্ড" অপশনটি খুবই কাজের - এক ক্লিকেই ছবির পিছনের অংশ মুছে ফেলে। 

সুবিধা:

  • এক অ্যাপে হাজারো কাজ করা যায়
  • কমিউনিটি ফিচার থাকায় অন্যের কাজ দেখে শেখা যায়
  • নিয়মিত নতুন ফিচার যুক্ত হয়

অসুবিধা:

  • বিজ্ঞাপন অনেক বেশি
  • প্রিমিয়াম ফিচারের জন্য সাবস্ক্রিপশন লাগে
  • কিছু ইফেক্ট ওয়াটারমার্ক দেয়

৪.VSCO : ভিনটেজ লুকের জন্য সেরা 

VSCO মূলত ফিল্টারের জন্য বিখ্যাত। বিশেষ করে যারা ভীনটেজ টাইপের ছবি পছন্দ করেন, তাদের জন্য একটি আদর্শ অ্যাপ। সিম্পল ইন্টারফেস এবং অসাধারণ ফিল্টার কালেকশন এটিকে বিশেষ করে তুলেছে।

মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • ২০০ টির বেশি প্রিমিয়াম প্রিসেট 
  • অ্যাডভান্সড ক্যামেরা কন্ট্রোল
  • ফিল্ম-স্টাইল ফিল্টার
  • মিনিমালিস্ট ইন্টারফেস
  • VSCO কমিউনিটি

কিভাবে ব্যবহার করবেন:

VSCO অ্যাপ খুলে ছবি সিলেক্ট করলে নিচে বিভিন্ন ফিল্টারের আইকন দেখতে পাবেন। এখানেC1, M5, A6 ইত্যাদি নামের ফিল্টারগুলো খুবই জনপ্রিয়। ফিল্টার সিলেক্ট করার পর আবার ট্যাপ করলে ফিল্টারের তীব্রতা কমানো-বাড়ানো যায়।এডজাস্টমেন্ট টুল দিয়ে এক্সপোজার, কনট্রাস্ট, স্যাচুরেশন ইত্যাদি ঠিক করতে পারেন।

সুবিধা:

  • ফিল্টারগুলো সত্যিই অসাধারণ
  • কোন বিজ্ঞাপন নেই
  • কমিউনিটি ফিচার ভালো

অসুবিধা:

  • বিনামূল্যের ভার্সনে খুব কম ফিচার 
  • বেশিরভাগ ভালো ফিল্টার প্রিমিয়াম
  • এডিটিং টুল সীমিত

৫.Canva: ডিজাইন প্রেমিদের জন্য

ক্যানভা মূলত গ্রাফিক ডিজাইনের অ্যাপ হলেও এর ছবি এডিটিং ফীচারগুলোও দারুন। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য পোস্ট তৈরি করতে এটি সেরা স্মার্টফোনে ছবি এডিট করার সেরা অ্যাপসমূহ এর মধ্যে এটি ডিজাইন অংশে অনন্য।

মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
  • হাজার হাজার টেমপ্লেট
  • ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভার
  • ম্যাজিক ইরেজার দিয়ে অবাঞ্ছিত বস্তু মুছতে পারেন 
  • এ আই-চালিত ইমেজ জেনারেশন
  • অ্যানিমেটেড design তৈরি 

কিভাবে ব্যবহার করবেন:
ক্যানভাস খুলে নিচের "+" বাটনে ক্লিক করে একটি ডিজাইন সিলেক্ট করুন। এরপর " আপলোড" থেকে আপনার ছবি যোগ করুন। ছবিতে ক্লিক করলে নিচে এডিট অপশন আসবে। এখান থেকে এডজাস্ট ফিল্টার,  ক্রপ,  ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ ইত্যাদি করতে পারেন। টেক্সট যোগ করে সুন্দর ক্যাপশন দিতে পারেন।

সুবিধা:
  • টেমপ্লেটের বিশাল কালেকশন
  • ব্যবহার করা খুব সহজ
  • টিমের সাথে শেয়ার করার সুবিধা

অসুবিধা:
  • ইন্টারনেট কানেকশন ছাড়া কাজ করে না
  • প্রিমিয়াম ফিচারের জন্য সাবস্ক্রিপশন লাগে
  • মাঝে মাঝে স্লো হয়

৬.LightX: বাংলা টেক্সট সাপোর্ট

লাইকএক্স এমন একটি অ্যাপ যা বাংলা টেক্সট সাপোর্ট করার জন্য বাংলাদেশী ও পশ্চিমবঙ্গের ইউজারদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। এছাড়াও এর ফিচারগুলো বেশ শক্তিশালী।
মূল বৈশিষ্ট্য সমূহ:
  • বাংলা ফন্টে টেক্সট যোগ করা যায়
  • প্রফেশনাল পোটের্ট এডিটিং
  • হেয়ার ডাই ও মেকআপ ইফেক্ট
  • ম্যাজিক ফিল্টার
  • ক্লোন টুল

কিভাবে ব্যবহার করবেন:
লাইট এক্স খুলে ছবি ওপেন করলে নিচে অনেকগুলো অপশন দেখবেন। " টেক্সট" ট অপশনে গিয়ে বাংলা লেখা যোগ করতে পারেন - এখানে বিভিন্ন বাংলা ফন্ট পাবেন। "পোটের্ট" অপশন দিয়ে মুখের ত্বক মসৃণ করা, চোখ বড় করা, চুলের রং পরিবর্তন করা যায়।

সুবিধা:
  • বাংলা টেক্সট সাপোর্ট চমৎকার
  • ফ্রি ভার্সনে অনেক ফিচার পাওয়া যায়
  • পোটের্ট এডিটিং খুব ভালো
অসুবিধা:
  • ইন্টারফেস একটু জটিল।
  • বিজ্ঞাপন অনেক
  • কিছু ফিচার বুঝতে সময় লাগে


৭.Remini ছবির মান উন্নত করার জন্য

রেমিনি বিশেষায়িত একটি অ্যাপ - এটি পুরনো বা কম মানের ছবিকে এ আই-এর সাহায্যে হাই-ডেফিনেশন রূপান্তর করে। স্মার্ট ফোনে ছবি এডিট করার সেরা অ্যাপসমূহ এর মধ্যে এটি অনন্য একটি অবস্থানে আছে।

মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
  • এ আই-চালিত ইমেজ Enhancment
  • পুরনো ছবি রিস্টোর করা
  • ফেস ডিটেইল উন্নত করা
  • ভিডিও কোয়ালিটি বৃদ্ধি
  • ব্যাচ প্রসেসিং
কিভাবে ব্যবহার করবেন:

রেমিনি খুলে নিচের"+" বাটনে ক্লিক করে ছবি সিলেক্ট করুন। এরপর "ENHANC" বাটনে ক্লিক করলেই অ্যাপ সক্রিয়ভাবে ছবির মান উন্নত করতে শুরু করবে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আগের ও পরের ছবি দেখতে পাবেন। সন্তুষ্ট হলে সেভ করে নিন।

সুবিধা:
  • এ আই টেকনোলজি অসাধারণ কাজ করে
  • পুরনো ছবি নতুনের মত হয়
  • ব্যবহার করা খুব সহজ
অসুবিধা:
  • ফ্রি ভার্সনে সীমিত ব্যবহার
  • ওয়াটার মার্ক আসে
  • শুধু ইনহান্সমেন্ট-এর জন্য, এডিটিং নয়

৮. Facetune: সেলফি প্রেমীদের জন্য

ফেসটিউন  মূলত পোট্রেট ও সেলফি এডিটিংয়ের জন্য তৈরি। যারা নিজের ছবি নিখুঁতভাবে সাজাতে চান, তাদের জন্য এটি আদর্শ অ্যাপ।

মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
  • ত্বক মসৃণ করার টুল
  • দাঁত সাদা করার ফিচার
  • চোখ উজ্জ্বল করা
  • মেকআপ যোগ করা
  • ফেস শেপ  চেঞ্জ করা

কিভাবে করবেন:
ফেসটিউনে ছবি ওপেন করলে নিচে বিভিন্ন টুল  দেখবেন। "রিটাচ" অপশন দিয়ে ত্বকের দাগ ও বলিরেখা মুছতে পারেন।"স্কাল্পট"  অপশন দিয়ে মুখের গঠন পরিবর্তন করা যায়। "লাইট" অপশন দিয়ে ফেসিয়াল ফিচারে আলো ছড়াতে পারেন।

সুবিধা:
  • পোর্ট্রেট এডিটিং দারুন
  • ব্যবহার করা সহজ
  • রিয়েলইস্টিক ইফেক্ট

অসুবিধা:
  • সম্পূর্ণ পেইড অ্যাপ
  • শুধু পোট্রেট-এর জন্য সীমিত
  • অতি ব্যবহারে ছবি নকল মনে হয়

৯. PhotoDirector: ডিরেক্টর মত এডিটিং

ফটো ডিরেক্টর একটি শক্তিশালী অ্যাপ যা এআই-চালিত অনেক ফিচার নিয়ে এসেছে। এটি সাইবার লিংক কোম্পানির তৈরি।

মূল বৈশিষ্ট্য সমূহ:
  • এআই-পাওয়ার্ড ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভাল
  • মোশন ইফেক্ট দিয়ে ছবিকে  অ্যানিমেট করা
  • অ্যাকশন ক্যামেরা  ইফেক্ট
  • এইচডিআর ইফেক্ট
  • স্টাইল ট্রান্সফার

কিভাবে করবেন:
ফটো ডিরেক্টর খুলে ছবি ওপেন করুন। নিচে "এআই স্টাইল" অপশন পাবেন - এখানে থেকে বিভিন্ন আর্ট স্টাইল ছবিতে প্রয়োগ করতে পারেন। "মোশন" অপশন দিয়ে ছবির নির্দিষ্ট অংশে নড়াচড়ার ইফেক্ট দিতে পারেন।"রিমুভ ব্যাকগ্রাউন্ড" অপশন খুবই শক্তিশালী। 
সুবিধা:
  • এ আই ফিচারগুলো অসাধারণ
  • নিয়মিত আপডেট হয়
  • ব্যবহার করা মোটামুটি সহজ
অসুবিধা:
  • ফ্রি ভার্সনে সীমিত
  • কিছু ফিচার বুঝতে সময় লাগে
  • পারফরম্যান্স মাঝে মাঝে ধীর


১০. Pixlr: অনলাইন এডিটরের মোবাইল ভার্সন

পিক্সলার  দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন ফটো এডিটর হিসেবে জনপ্রিয়। এর মোবাইল অ্যাপটিও বেশ শক্তিশালী। স্মার্টফোনে ছবি এডিট করার সেরা অ্যাপসমূহ এর মধ্যে একটি পুরানো ও নির্ভরযোগ্য নাম।
মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
  • ২ মিলিয়নের বেশি ইফেক্ট কম্বিনেশন
  • অটো-ফিক্স ফিচার
  • লেয়ার-ভিত্তিক এডিটিং 
  • কলাজ মেকার
  • স্টিকার ও টেক্সটের বিশাল কালেকশন 

কিভাবে ব্যবহার করবেন:
পিক্সলার খুললে প্রথমে একটি প্লাস স্ক্রিন আসবে। ফটো এডিটর" সিলেক্ট করে ছবি নিন। উপরে অটো ফিক্সট বাটন আছে - এক ক্লিকেই ছবি ভালো হয়ে যাবে। নিচের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ফিল্টার পাবেন। ডাবল এক্সপোজার ও কলাজ মেকার অপশনও আছে।

সুবিধা:
  • প্রচুর ফিল্টার ও ইফেক্ট
  • ব্যবহার করা সহজ
  • ফ্রি ভার্সনে অনেক ফিচার

অসুবিধা:
  • বিজ্ঞাপন বিরক্তি কর
  • প্রিমিয়াম ফিচারের জন্য অর্থ দিতে হয়
  • কিছু ফিচার পুরনো মনে হয়

কিভাবে সঠিক অ্যাপ নির্বাচন করবেন?

এতগুলোর মধ্যে কোন একটি আপনার জন্য সেরা হবে? এটি নির্ভর করে আপনার প্রয়োজন ও দক্ষতার উপর। নিচে কিছু পরামর্শ দেওয়া হলো:

১. আপনি কি ধরনের এডিটিং করতে চান?
  • প্রফেশনাল মানের ফটো এডিটিং করতে চাইলে:Adobe Lightroom বা Snapseed
  • সেলফি ও পোট্রের্ট এডিটিং করতে চাইলে:Facetune বা LightX
  • সৃজনশীল ডিজাইন ও কলাজ তৈরি করতে চাইলে:Picsart বা Canva
  • ভিন্টেজ ফিল্টার পছন্দ করলে:VSCO
  • ছবির মান উন্নত করতে চাইলে:Remini

২.আপনার বাজেট কেমন? 
  • সম্পূর্ণ ফ্রি আর চাইলে:Snapseed, LightX ( ফ্রি ভার্সন)
  • ফ্রিও পেইড মিশ্রিত অ্যাপ চাইলে:Picsart, Canva, Adobe Lightroom
  • পেইড  অ্যাপ ব্যবহারে রাজি থাকলে:Facetune, VSCO

৩. আপনি কি নতুন ব্যবহারকারী?
  • নতুনদের জন্য সহজেঅ্যাপ:Canva, Picsart, Snapseed
  • একটু এক্সপার্টদের জন্য:Adobe Lightroom, VSCO

স্মার্টফোনে ছবি এডিট করার কিছু প্রো টিপস

শুধু অ্যাপ চিনলেই হবে না, সেগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করাও জানতে হবে। নিচে কিছু টিপস দেওয়া হল যা আপনার ছবি এডিটিংকে আরও পেশাদার করে তুলবে:
১. মূল ছবির কপি রাখুন
এডিটিং করার আগে সব সময় মূল ছবির একটি কপি আলাদা করে রাখুন। কারণ অনেক সময় এডিটিং পছন্দ নাও হতে পারে - তখন মূল ছবি থেকে আবার শুরু করতে পারবেন।
২. অতিরিক্ত এডিটিং এড়িয়ে চলুন 
অনেকে এত বেশি এডিটিং করেন যে ছবি বাস্তব থেকে দূরে সরে যায়। মনে রাখবেন, এডিটিংয়ের উদ্দেশ্য হলো ছবির সৌন্দর্য বাড়ানো, পুরোপুরি বদলে ফেলা নয়।
৩. লাইটিং ঠিক রাখুন 
ছবি এডিটিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আলোর সমন্বয়। এক্সপোজার, কন্ট্রাস্ট, হাইলাইটস ও শ্যাডো ঠিকভাবে এডজাস্ট করলে ছবি অনেক গুণ ভালো হয়।
৪. কালার ব্যালেন্স দেখুন
স্যাচুরেশন বেশি বাড়ালে ছবি নকল দেখায়। প্রাকৃতিক রং বজায় রাখার চেষ্টা করুন। হোয়াইট ব্যালেন্স ঠিক করে নিন।
৫. ক্রপ করে কম্পোজিশন ঠিক করুন
অনেক সময় ছবির অপ্রয়োজনীয় অংশ ক্রপ করে দিলেই কম্পোজিশন দারুন হয়ে যায়।  থার্ডস রুল মাথায় রাখুন।
৬. টেক্সট ও গ্রাফিক্স ব্যবহারে সংযত হন
ছবিতে টেক্সট ও স্টিকার যোগ করতে পারেন, তবে অতিরিক্ত কিছু যোগ করলে ছবির মূল সৌন্দর্য নষ্ট হয়।

ছবি এডিটিংয়ের কিছু সাধারণ ভুল ও সমাধান

ভুল ১: অতিরিক্ত ফিল্টার ব্যবহার
অনেকেই একটি ছবিতে একাধিক ফিল্টার প্রয়োগ করেন। এতে ছবি ভারী হয়ে যায়।
সমাধান: একটি ভাল ফিল্টার বেছে নিন এবং তার তীব্রতা কমিয়ে (opacity কমিয়ে)ব্যবহার করুন।
ভুল ২: ত্বক অতিরিক্ত মসৃণ করা
পোট্রের্ট  এডিটিংয়ে ত্বক মসৃণ করতে গিয়ে অনেকেই প্লাস্টিকের মতো করে ফেলেন।
সমাধান: ত্বকের টেক্সচার কিছুটা রাখুন। ব্রণ বা দাগ তোলা ভালো, তবে ত্বকের প্রাকৃতিক গঠন থাকা উচিত। 
 ভুল ৩: ভুল বেশিওতেসেভ করা 
অনেক সময় ছবি এডিট করে সঠিক রেশিও না মেনে শেভ করলে সোশ্যাল মিডিয়াতে ছবি কেটে যায়।
সমাধান: যেখানে পোস্ট করবেন,  সেই প্লাটফর্মের সঠিক সাইজ জেনে নিন এবং সে অনুযায়ী ক্রপ করুন।
ভুল ৪: কম্প্রেশনের কারণে মান নষ্ট হওয়া
বারবার এডিট করে সেভ করলে ছবির মান কমে যায়।
সমাধান: সর্বোচ্চ কোয়ালিটিতে সেভ করুন। পিএনজি ফরম্যাট ব্যবহার করলে মান ভালো থাকে। 

ভবিষ্যতে ছবি এডিটিংয়ের ট্রেন্ড

প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে ছবি এডিটিংয়েও আসছে নতুন নতুন ট্রেন্ড.২০২৪-২৫ সালে যেসব ট্রেন্ড  দেখা যাবে:
১. এ আই-চালিত এডিটিং
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এখন ছবি এডিটিংয়েও বিপ্লব ঘটাচ্ছে।  রেমিনি, লেনোসা, পিকসআর্টের এ আই টুল ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও অটোমেটিক ও স্মার্ট ফিচার আসবে।
২. ভিডিও এডিটিংয়ের সাথে মিশ্রণ
ছবি ও ভিডিও এডিটিংয়ের মধ্যে সীমানা ক্রমশ মুছে যাচ্ছে। এখন অনেক অ্যাপেই ছবি থেকে ভিডিও বানানোর ফিচার আছে।
৩.  এ আর ইফেক্ট
অগমেন্টেড রিয়েলিটি এফেক্ট দিয়ে ছবিতে ভার্চুয়াল অবজেক্ট যুক্ত করা যাচ্ছে। এটি ভবিষ্যতে আরও বাস্তবসম্মত হবে।
৪. ক্লাউড-ভিত্তিক এডিটিং
অ্যাডোব ক্রিয়েটিভ ক্লাউডের মত সার্ভিস এখন মোবাইলেও আসছে, যেখানে আপনি যে কোন ডিভাইস থেকে এডিট শুরু করে অন্য ডিভাইসে শেষ করতে পারবেন।

উপসংহার

স্মার্টফোনে ছবি এডিট করার সেরা অ্যাপসমূহ ব্যবহার করে আপনি আপনার সাধারণ স্মার্টফোন দিয়ে তোলা ছবি কেউ প্রফেশনাল মানের করতে পারেন। আজকের আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করইছি ১০ টি সেরা অ্যাপ নিয়ে - যার মধ্যে Adobe Lightroom, Snapseed, Picsart, VSCO, Canva  বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
মনে রাখবেন, ভালো অ্যাপ থাকলেই হবে না - তা সঠিকভাবে ব্যবহার জানতে হবে। শুরুতে একটু সময় নিয়ে বিভিন্ন অ্যাপ এক্সপোলর করুন, টিউটোরিয়াল দেখুন, নিজে  অনুশীলন করুন। ধীরে ধীরে আপনি নিজের স্টাইল তৈরি করে ফেলবেন। 

আপনি যদি সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য নিয়মিত ছবি পোস্ট করেন তাহলে Picsart বা  Canva আপনার জন্য ভালো হবে। আর যদি প্রফেশনাল ফটোগ্রাফির দিকে যেতে চান, তাহলে Adobe Lightroom ও Snapseed দিয়ে শুরু করুন।

ছবি এডিটিং একটি শিল্প। এই শিল্পকে রপ্ত করতে পারলে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল, ব্যক্তিগত অ্যালবাম বা পেশাদার কাজ - সব জায়গাতেই আপনি অনন্য হয়ে উঠবেন।তাই আজই ডাউনলোড করুন আপনার পছন্দের অ্যাপ, আর নিজের সৃজনশীলতা কে মুক্ত দিন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url