ভূমিকা: ব্লগ লিখে সত্যিই কি আয় হয়?
সত্যি কথা বলতে, যখন প্রথমবার শুনেছিলাম যে বাংলায় ব্লগ লিখলেও গুগল
অ্যাডসেন্স থেকে আয়করা যায়, তখন বিশ্বাসই হয়নি। মনে হয়েছিল এটা
বোধহয় তবু ইংরেজি ভাষীদের জন্য। কিন্তু নাー
বাংলা ব্লগ লিখে গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় করার পদ্ধতি এখন সম্পূর্ণ
বাস্তব এবং বাংলাদেশের অনেক মানুষ এই পথে সফল।
গুগল অ্যাডসেন্স হলো গুগলের একটি বিজ্ঞাপন প্রোগ্রাম। আপনার ব্লগে গুগল
স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিজ্ঞাপন দেখায়, আর কেউ সেই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে বা
বিজ্ঞাপন দেখলে আপনি আয় করেন। ব্যাপারটা এতটাই সহজ যে একবার সেটআপ হয়ে
গেলে আপনি ঘুমালেও টাকা আসতে থাকে।
এই আর্টিকেলে আমি একদম শুরু থেকে বলবো ー ব্লগ তৈরি করা, কন্টেন্ট লেখা,
অ্যাডসেন্স আবেদন করা এবং আয় বাড়ানো পর্যন্ত সবকিছু। ভয় নেই, জটিল কিছু
নেই। চলুন শুরু করি।
│একটু থামুন! এই গাইডটি তাদের জন্য
যারা সত্যিই ব্লগিং শুরু করতে চান। শুধু পড়লেই হবে না ー পড়তে পড়তে কাজও শুরু
করুন।
পেজ সূচিপত্রে বাংলা ব্লগ লিখে গুগল অ্যাডসেন্স মাধ্যমে কিভাবে আয় করা যায়
তার বিস্তারিত বর্ণনাঃ
১.গুগল অ্যাডসেন্স আসলে কি এবং কিভাবে কাজ করে?
অ্যাডসেন্স বোঝার আগে একটা ছোট গল্প বলি। ধরুন আপনার একটা মুদির দোকান আছে। দোকানের
দেয়ালে অন্য কারো বিজ্ঞাপন টাঙিয়ে রাখলে সেই কোম্পানি আপনাকে ভাড়া দিবে। ব্লগে
অ্যাডসেন্স ঠিক এভাবেই কাজ করে ーশুধু এখানে দেয়াল নেই, আছে ওয়েব পেজ।
অ্যাডসেন্সের কাজের ধারা
আপনি ব্লগে কনটেন্ট লেখেন →গুগল আপনার কনটেন্ট পরে প্রাসঙ্গিক বিজ্ঞাপন
দেখায় →পাঠক সেই বিজ্ঞাপন দেখেন বা ক্লিক করেন →গুগল বিজ্ঞাপনদাতার কাছ থেকে
টাকা নেই →তার ৬৮% আপনাকে দেই। এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়।
কত টাকা আয় হয়?
এর পরিমাণ নির্ভর করে তিনটি জিনিসের উপর; ভিজিটর সংখ্যা, বিজ্ঞাপনের ধরন এবং
ভিজিটর কোন দেশ থেকে আসছেন। বাংলাদেশি ভিজিটর থেকে প্রতি হাজার ভিউতে সাধারণত
০.৫০ থেকে ২ ডলার আয় হয়। যদি আপনার ব্লগে মার্কিন বা ইউরোপীয়
ভিজিটর আসেন তাহলে ৫ থেকে ৩০ ডলারও হতে পারে।
| ভিজিটর প্রতিদিন |
মাসিক পেজভিউ |
আনুমানিক মাসিক আয় |
| ৫০০ জন |
১৫০০০ |
ট ১৫০০-ট৪,০০০ |
| ২০০০ জন |
৬০,০০০ |
ট৬০০০-ট১৫,০০০ |
| ৫০০০ জন |
১,৫০,০০০ |
ট ১৫০০০-ট৪০ ০০০ |
| ১০,০০০ জন |
৩,০০.০০০ |
ট৩০,০০০-ট৮০,০০০ |
│মনে রাখুন: এগুলো আনুমানিক হিসাব। আসল
আয় বিষয়, ট্রাফিক সোর্স এবং বিজ্ঞাপনের ধরনের উপর নির্ভর করে কম-বেশি হতে
পারে।
২.ব্লগ শুরু করার আগে যা ভাবতে হবে
অনেকেই ব্লগ শুরু করেন, কিন্তু তিন মাস পর ছেড়ে দেন। কেন? কারণ শুরুতেই
সঠিক পরিকল্পনা না করে ঝাঁপ দিয়ে পড়েন। আমি চাই আপনি এই ভুলটা না
করুন।
নিজেকে জিজ্ঞেস করুন এই প্রশ্নগুলো:
- আমি কোন বিষয়ে লিখতে ভালোবাসি এবং সেই বিষয়ে কি যথেষ্ট জানি?
- এই বিষয়ে কি মানুষ গুগলে খোঁজে? মানে, চাহিদা আছে কি?
- আমি কি প্রতি সপ্তাহে অন্তত ২-৩ টা আর্টিকেল লিখতে পারব?
- ফলাফল পেতে ৬-১২ মাস অপেক্ষা করার ধৈর্য আমার আছে কি?
যদি উপরোক্তগুলো হ্যাঁ হয়, তাহলে এগিয়ে যান। আর যদি মনে হয় ধৈর্য একটু কম
- সেক্ষেত্রেও চেষ্টা করুন, কারণ ব্লগিং শুরু করলে ধৈর্য আপনাআপনি তৈরি
হয়।
কোন বিষয়ে ব্লগ করবেন?
বাংলায় যেসব বিষয়ে বেশি সার্চ হয় এবং অ্যাডসেন্সের আয়ও ভালো:
| বিষয় |
আনুমানিক CPC |
প্রতিযোগিতা |
| স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা |
উচ্চ |
মাঝারি |
| প্রযুক্তি ও গ্যাজেট |
উচ্চ |
উচ্চ |
| অনলাইন আয় ও ফ্রিল্যান্সিং |
উচ্চ |
উচ্চ |
| রান্না ও খাবার |
মাঝারি |
কম |
| শিক্ষা ও পরীক্ষা |
মাঝারি |
মাঝারি |
| ভ্রমণ ও পর্যটন |
মাঝারি |
কম |
| সম্পর্ক ও জীবনযাপন |
কম-মাঝারি |
কম |
│পরামর্শ: আপনি যে বিষয়ে ভালো জানেন এবং মানুষ যা খোঁজে ーএই দুটোর
মিলন বিন্দুতেই আপনার Niche । প্রতিযোগিতা বেশি হলেও ভয় নেই, মানসম্পন্ন
কনটেন্ট সবসময়ই জায়গা করে নেই।
৩.ব্লগ তৈরি করুন ーধাপে ধাপে
এই অংশটা মনোযোগ দিয়ে পড়ুন কারণ এখানে একটু টেকনিক্যাল বিষয় আছে। তবে সহজ
ভাষায় বলছি, ঘাবড়াবেন না।
ধাপ ১: ডোমেইন নাম কিনুন
ডোমেইন হলো আপনার ব্লগে ঠিকানা, যেমন: www.apnarnameblog.com। একটা ভালো
ডোমেইন নামের বৈশিষ্ট্য হল: ছোট মনে রাখার মত, বিষয়ের সাথে মিল আছে এমন
এবং. com এক্সটেনশন হলে ভালো।
Namecheap, GoDaddy বা Exabytes Bangladesh থেকে বাৎসরিক ৮০০ -১২০০
টাকায় একটি.com ডোমেইন পাবেন।
ধাপ ২ : হোস্টিং নিন
হোস্টিং হলো সেই জায়গা যেখানে আপনার ব্লগের সব তথ্য সংরক্ষিত থাকে।
নতুনদের জন্য Hostinger সবচেয়ে সাশ্রয়ী - মাসিক ২০০-৪০০
টাকায় পাওয়া যায়। Bluehost বা siteGround একটু দামি কিন্তু গতিও নির্ভরযোগ্য
তাই ভালো।
ধাপ ৩ : WordPress ইন্সটল করুন
WordPress হলো বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম। বেশিরভাগ হোস্টিং
প্রোভাইডার এক ক্লিকে WordsPress ইনস্টল করার সুবিধা দেয়। ইন্সটল করার
পর একটি সুন্দর থিম বেছে নিন। বিনামূল্যে অনেক ভালো থিম পাবেন - GeneratePressবা
Astra দিয়ে শুরু করতে পারেন।
ধাপ ৪: দরকারি প্লাগইন যোগ করুন
- Rank Math SEO বা Yoast SEO一আর্টিকেল SEO করার জন্য
- WP Rocket বা LiteSpeed Cache 一সাইটের গতি বাড়াতে
- Wordfence Security 一নিরাপত্তার জন্য
- UpdraftPlus 一ব্যাকআপের জন্য
│বিনামূল্যে বিকল্প: যদি বিনিয়োগ না করতে চান, তাহলে Blogger.com
দিয়ে শুরু করুন। একটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং সরাসরি গুগল
অ্যাডসেন্স সংযুক্ত করা যায়। তবে দীর্ঘ মেয়াদে WordsPress- ই
সেরা।
৪.SEO(এসইও) বান্ধব কনটেন্ট লেখার কৌশল
ব্লগ তৈরি হয়ে গেলে এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ 一 কনটেন্ট লেখা। বাংলা ব্লগ
লিখে গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় করার পদ্ধতিতে কন্টেন্টই হল সবকিছু মূল ভিত্তি।
ভালো কনটেন্ট না থাকলে ভিজিটর আসবেনা, ভিডিওটা না থাকলে আয়ও নেই।
কি ওয়ার্ড রিসার্চ 一সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ
কিওয়ার্ড হলো সেই শব্দ বা বাক্য যা মানুষ গুগলে টাইপ করে খুঁজে। আপনাকে এমন
কিওয়ার্ড নিয়ে লিখতে হবে যা মানুষ খুঁজে কিন্তু তুলনামূলকভাবে কম প্রতিযোগিতা
আছে।
কিওয়ার্ড রিসার্চের জন্য বিনামূল্যে টুল:
-
Google Search Console 一আপনার সাইটে কোন কিওয়ার্ডে ভিজিটর আসছে
- Google Keyword Planner 一সাত ভলিউম দেখার জন্য
- Ubersuggest 一বিনামূল্যে কিওয়ার্ড আইডিয়া
- Answare The Public 一মানুষ কি প্রশ্ন করছে তা জানতে
- Google- এর অটোসাজেস্ট সার্চবারে টাইপ করলে যা আসে
একটি ভালো আর্টিকেলের কাঠামো
পেশাদার ব্লগারদের মতে লিখতে হলে প্রতিটি আর্টিকেলে এ কাঠামো অনুসরণ করুন:
- আকর্ষণীয় শিরোনাম ーকিওয়ার্ড এবং কৌতুহল দুটোই থাকতে হবে
- শক্তিশালী ভূমিকা 一প্রথম ১০০ শব্দেই পাঠককে ধরে রাখুন
- বিষয়বস্তু ーসাব- হেডিং ব্যবহার করে গুছিয়ে লিখুন
- প্রাসঙ্গিক ছবি ও তথ্য 一পড়তে আগ্রহ বাড়ায়
- উপসংহার 一 মূল বিষয় সংক্ষেপে এবং একটি কল টু অ্যাকশন
আর্টিকেলে SEO করার নিয়ম
প্রতিটি আর্টিকেল প্রকাশের আগে নিশ্চিত করুন:
- শিরোনামে মূল কিওয়ার্ড আছে
- প্রথম ১০০ শব্দের মধ্যে কিওয়ার্ড একবার আছে
- আর্টিকেলে মোট কি ওয়ার্ডের ঘনত্ব ১.৫%-২% এরমধ্যে
- সাব- হেডিংয়ে (H2,H3) সংশ্লিষ্ট কিওয়ার্ড ব্যবহার হয়েছে
- মেটা ডিস্ক্রিপশন লেখা হয়েছে
- ছবিতে Alt Text দেওয়া হয়েছে
- আর্টিকেলের দৈর্ঘ্য কমপক্ষে ১৫০০ শব্দ
│সত্যি কথা:SEO মানে কিওয়ার্ড ঠেসে দেওয়া নয়। মানুষের জন্য
লিখুন, গুগলের জন্য一সামান্য অপটিমাইজ করুন এটুকুই যথেষ্ট
।
৫.গুগল অ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করবেন কখন এবং কিভাবে?
এটা অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বাংলা ব্লগ লিখে google adsence
থেকে আই করার পদ্ধতিতে এডসেন্স অনুমোদন পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অনেকেই
প্রথম আবেদনে প্রত্যাখাত হন কারণ তারা তৈরি না হয়েই আবেদন করেন।
আবেদনের আগে যা থাকতেই হবে
-
কমপক্ষে ২০-৩০ একটি মানসম্পন্ন আর্টিকেল (প্রতিটি ন্যূনতম ১০০০
শব্দ)
- ব্লগের বয়স কমপক্ষে ৩-৬ মাস হলে ভালো
- প্রতিদিন কিছু অর্গানিক ভিজিটর আসছে
- About, Contact,Privacy Policyপেজ তৈরি আছে
- কপিরাইট লংঘন করা কোন কনটেন্ট নেই
- ব্লগের ডিজাইন পরিষ্কার ও পেশাদার
আবেদনের প্রক্রিয়া
-
adsense.google.com-এ যান এবং গুগল একাউন্ট দিয়ে সাইন in
করুন
- 'Get Started'বাটনে ক্লিক করুন
- আপনার ব্লগের URLদিন
- পেমেন্টের তথ্য দিন - ব্যাংক একাউন্ট বা payoneer
-
একটি কোড আপনাকে দেওয়া হবে - সেটি ব্লগে যোগ করুন
-
Google আপনার সাইট পর্যালোচনা করবে - সাধারণত ২-৪ সপ্তাহ
লাগে
- অনুমোদন পেলে ইমেইলে জানানো হবে
অনুমোদন না পেলে কি করবেন?
ঘাবড়াবেন না 一 এটা খুবই স্বাভাবিক। google কারণ জানাবে। সে অনুযায়ী
সমস্যা ঠিক করুন এবং আবার আবেদন করুন। সাধারণ সমস্যাগুলো হল কম
কন্টেন্ট, কপি করা লেখা, বা প্রয়োজনীয় পেজ না থাকা।
│টিপস: আবেদনের আগে PrivacyPolicy পেজ অবশ্যই
তৈরি করুন।privacypolicygenerator.info থেকে বিনামূল্যে policy তৈরি
করতে পারবেন।
৬.অ্যাডসেন্স অনুমোদনের পর কি করবেন?
অ্যাডসেন্স অনুমোদন পেয়েছেন - অভিনন্দন! কিন্তু এটা শেষ নয়, এটা
আসলে শুরু। এখন আয় বাড়ানোর কাজ শুরু।
বিজ্ঞাপন সঠিকভাবে বসান
বিজ্ঞাপন কোথায় বসাবেন সেটা আয়ের উপর বড় প্রভাব ফেলে। সেরা
জায়গাগুলো :
-
আর্টিকেলের একদম শুরুতে (above the fold) ーসবচেয়ে বেশি দেখা
যায়
-
আর্টিকেলের মাঝখানে ーপাঠক পড়তে পড়তে দেখেন
- সাইডবারেーস্ক্রল করলেও দেখা থাকে
- আর্টিকেলের শেষে ーপাঠকের মনোযোগ থাকে
তবে সতর্কতা ーবেশি বিজ্ঞাপন দিলে পাঠক বিরক্ত হন এবং google ও পছন্দ করেনা।
প্রতি পেজে ৩-৫ টির বেশি বিজ্ঞাপন না রাখাই ভালো।
অটো অ্যাডস ব্যবহার করুন
অ্যাডসেন্স 'Auto Ads' ফিচার চালু করলে google নিজেই সেরা জায়গায় বিজ্ঞাপন
বসাবে। নতুনদের জন্য এটা সবচেয়ে সহজ উপায়।
৭.ট্রাফিক বাড়ানোর কৌশল - আয় বাড়বে আপনাআপনি
বাংলা ব্লগ লিখে গুগল এডসেন্স থেকে আয় করার পদ্ধতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
হল ট্রাফিক বাড়ানো। বেশি ভিজিটর মানে বেশি বিজ্ঞাপন দেখা মানে, বেশি
আয়। তাই ট্রাফিকই হলো আসল চাবিকাঠি।
অর্গানিক ট্রাফিক - সবচেয়ে মূল্যবান
গুগল সার্চ থেকে আসা ভিজিটর কে বলা হয় অর্গানিক ট্রাফিক। এরা সবচেয়ে
মূল্যবান কারণ এরা নির্দিষ্ট কিছু খুঁজতে এসেছেন। অর্গানিক ট্রাফিক
বাড়াতে:
- দীর্ঘমেয়াদী SEO কৌশল মেনে চলুন
- লং -টেল কিওয়ার্ড টার্গেট করুন
- নিয়মিত নতুন কনটেন্ট প্রকাশ করুন
- পুরনো আর্টিকেল আপডেট করুন
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ট্রাফিক
প্রতিটি আর্টিকেল প্রকাশের পর এই প্লাটফর্মে শেয়ার করুন:
-
Facebook - বাংলাদেশ সবচেয়ে কার্যকর; প্রাসঙ্গিক গ্রুপে
শেয়ার করুন
-
YouTube - ব্লগ আর্টিকেলের সংক্ষিপ্ত ভিডিও বানিয়ে চ্যানেলে
দিন, বিস্তারিত জন্য ব্লগে পাঠান
-
Pinterest - ছবি শেয়ারের এ প্লাটফর্ম থেকে প্রচুর ট্রাফিক
আসে
- Quora - প্রশ্নের উত্তর ব্লগের লিংক দিন
ইমেইল লিস্ট তৈরি করুন
অনেকেই এই বিষয়টা উপেক্ষা করেন, কিন্তু এটা দীর্ঘমেয়াদে সোনার খনি।
পাঠকের ইমেইল সংগ্রহ করুন এবং নতুন আর্টিকেল প্রকাশিত হলে তাদের জানান। এভাবে
তারা নিয়মিত আপনার ব্লগে ফিরে আসবেন।
│গুরুত্বপূর্ণ টিপস: অন্যের
ব্লগে গেস্ট পোস্ট করুন। এতে নতুন পাঠক পাবেন এবং ব্যাক লিঙ্ক পাবেন যা
SEO -তে দারুন কাজ করে।
৮.আয় বাড়ানোর অ্যাডভান্সড কৌশল
কিছুটা ট্রাফিক এবং আয় শুরু হলে এবার আরেকটু চালাক হওয়ার সময়। বাংলা ব্লগ
লিখে google অ্যাডসেন্স থেকে আয় করার পদ্ধতি আরো কার্যকর করতে এ কৌশল গুলো
ব্যবহার করুন।
CTR বাড়ান - ক্লিক থ্রু রেট
CTR মানে যত জন বিজ্ঞাপন দেখলেন তার কত শতাংশ ক্লিক করলেন। সাধারণত ১% -৩%
CTR ভালো ধরা হয়। CTR বাড়াতে বিজ্ঞাপনের অবস্থা পরীক্ষা করুন
- বিভিন্ন জায়গায় রেখে দেখুন কোথায় বেশি ক্লিক আসে। রেস্পন্সিভ
বিজ্ঞাপন ব্যবহার করুন যা মোবাইলেও ভালো দেখায়।
RPM বাড়ান - Revenue Per Mille
RPM মানে প্রতি হাজার পেজভিউতে আয়। এটা বাড়াতে :
-
উচ্চ CPC কিওয়ার্ড টার্গেট করুন আর (আর্থিক
সেবা, বীমা. স্বাস্থ্য)
- বিদেশী ভিজিটর আকর্ষণ করার চেষ্টা করুন
- Page RPM রিপোর্ট দেখুন এবং দুর্বল পেজ উন্নত করুন
A/B টেস্টিং করুন
বিজ্ঞাপনের রং আকার এবং অবস্থান পরিবর্তন করে পরীক্ষা করুন কোনটায় বেশি
আয় হয়। গুগল এডসেন্সের নিজস্ব পরীক্ষা-নিরীক্ষার টুল আছে - সেটা ব্যবহার
করুন।
মোবাইল অপটিমাইজেশন
বাংলাদেশে ৭০% -এর বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী মোবাইল ব্রাউজ করেন। তাই আপনার
ব্লগ অবশ্যই মোবাইল-ফ্রেন্ডলি হতে হবে। দ্রুত লোড হওয়া জরুরী - Google
PageSpeed Insights দিয়ে পরীক্ষা করুন।
৯. এডসেন্স নীতিমালা -যা মানতেই হবে
এই অংশটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ব্লগার নীতিমালা না মানার কারণে অ্যাকাউন্ট
বন্ধ হয়ে যায়। তাই সাবধান থাকুন।
যা করা যাবেনা
-
নিজের বা অন্যদের বিজ্ঞাপনে ক্লিক করতে বলা - একাউন্ট
তৎক্ষণাৎ বন্ধ
-
"বিজ্ঞাপনে ক্লিক করুন" টাইপের কোন টেক্সট বিজ্ঞাপনের পাশে লেখা
- কপিরাইট লংঘনকারী কন্টেন্ট প্রকাশ
- প্রাপ্তবয়স্ক, সহিংসতা বা বিদ্বেষমূলক কন্টেন্ট
- বিজ্ঞাপন ক্লিক বাড়াতে বট বা ট্রিক ব্যবহার
যা অবশ্যই করতে হবে
- Privacy Policy পেজ রাখুন
- কনটেন্ট নিজের লেখা হতে হবে
- ব্লগে পরিষ্কার নেভিগেশন থাকতে হবে
- গুগলের সার্ভিসিং এডসেন্স নীতিমালা নিয়মিত পড়ুন
│সতর্কতা: কখনোই নিজে বা বন্ধুদের
দিয়ে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করাবেন না। গুগলের ডিটেকশন সিস্টেম অত্যন্ত শক্তিশালী
- ধরা পড়লে একাউন্ট চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
১০.পেমেন্ট কিভাবে পাবেন?
আয়করার পর টাকা পাওয়ার বিষয়টা বোঝা দরকার। বাংলাদেশ থেকে অ্যাডসেন্সের
টাকা তোলার পদ্ধতি:
পেমেন্ট পদ্ধতি সমূহ
-
ব্যাংক ট্রান্সফার (Wire Transfer) অ্যাডসেন্স থেকে সরাসরি আপনার বাংলাদেশি
ব্যাংকে একাউন্টে টাকা আসে- সবচেয়ে সহজ উপায়
-
Payoneer একটি Payoneer অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে পান, তারপর বাংলাদেশী ব্যাংকে
পাঠান
পেমেন্ট থ্রেসহোল্ড
অ্যাডসেন্স থেকে পেমেন্ট পেতে হলে আপনার একাউন্টে কমপক্ষে ১০০ ডলার জমতে
হবে। ১০০ ১০০ ডলার হলে পরের মাসের ২১ তারিখের মধ্যে পেমেন্ট আসে।
ট্যাক্স তথ্য দিন
অ্যাডসেন্স একাউন্টে ট্যাক্স ফর্ম পূরণ করতে হবে। বাংলাদেশী হিসাবে ফর্ম
পুরন করুন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্যাক্স কর্তন কমে যায়।
১১.বাস্তব প্রশ্ন, সৎ উত্তর
এই অংশে আমি সে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিচ্ছি যা নতুনরা সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসা
করেন।
প্রশ্ন: শুরু করতে কত টাকা লাগে?
ডোমেইন (৮০০টাকা)+ হোস্টিং (৩০০০ টাকা/বছর) =৩৮০০ টাকা।আর
Blogger.com ব্যবহার করলে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
প্রশ্ন : কতদিনে আয় শুরু হবে?
সততার সাথে বলতেছি - সাধারণত ছয় মাস থেকে এক বছর লাগে। তবে এই সময়টা
আপনি ভিত্তি তৈরি করছেন। একবার র্যাংক হলে আর আয় তরতর করে বাড়ে।
প্রশ্ন: বাংলায় ব্লগ করলে কি কম আয় হয়?
হ্যাঁ ইংরেজি তুলনায় CPCকম। কিন্তু প্রতিযোগিতাও অনেক কম। একটি
ভালো বাংলা ব্লগে মাসে ট২০০০০ - ট৫০০০০ আয় করা অনেকেই করছেন।
প্রশ্ন: কতটি আর্টিকেল লিখতে হবে?
কমপক্ষে ১০০ টি মানসম্পন্ন আর্টিকেল লক্ষ্য রাখুন। এরপর থেকে ট্রাফিক ও আয়
দুটোই নিয়মিত বাড়তে থাকে।
১২.অ্যাডসেন্সের পাশাপাশি আরো আয়ের পথ
শুধু অ্যাডসেন্সের উপর নির্ভর না করে ব্লগ থেকে আরো কয়েকটি পথে আয় করতে
পারেন:
| আয়ের উৎস |
কীভাবে কাজ করে |
আনুমানিক আয় |
| অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং |
পণ্য রেফার করে কমিশন |
ট৫০০০-ট৫০০০০ |
| স্পনসর্ড পোস্ট |
ব্র্যান্ডের পক্ষে লেখা |
ট২০০০ -ট২০০০০ প্রতিটি |
| ই-বুক বিক্রি |
নিজের বই PDF -এ বিক্রি |
ট১০০০০ - ট১০০০০০ |
| অনলাইন কোর্স |
ব্লগ পাঠকদের কাছে বিক্রি |
ট২০০০০ - ট৫০০০০০ |
| ডিজিটাল সার্ভিস |
SEO, কন্টে ন্ট রাইটিং |
ট১০০০০ - ট৫০০০০ |
১৩.সফল বাংলা ব্লগারদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে এখন অনেক সফল বাংলা ব্লগার আছেন। তাদের
অভিজ্ঞতা থেকে কিছু সাধারণ শিক্ষা:
তারা যা করেছেন
-
একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হয়েছেন ーসব বিষয়ে লিখেননি
- পাঠকের সমস্যার সমাধান করেছেন, শুধু তথ্য দেননি
- SEO শিখেছেন এবং ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করেছেন
- প্রথম বছর আয় না হলেও থেমে যাননি
-
পাঠকদের সাথে যোগাযোগ রেখেছেনー কমেন্টের উত্তর দিয়েছেন
তারা যে ভুল করেননি
- শুরুতেই পেমেন্টের পেছনে ছোটেননি
- কনটেন্ট কপি করেননি
- দ্রুত ফলাফলের আশায় শর্টকাট নেননি
│অনুপ্রেরণা: অনেকেই চাকরীর পাশাপাশি ব্লগিং শুরু করেছেন এবং ২-৩ বছরে
ব্লকের আয় চাকরির বেতন ছাড়িয়ে গেছে। আপনিও পারবেন।
উপসংহার: আজই শুরু করুন
বাংলা ব্লগ লিখে google অ্যাডসেন্স থেকে আয় করার পদ্ধতি কোন রহস্য নয়। এটি
একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া 一ব্লগ তৈরি করুন, মানসম্পন্ন কনটেন্ট
লিখুন, SEO করুন, ট্রাফিক বাড়ান এবং অ্যাডসেন্স চালু করুন।
ব্যস।
কঠিন শোনালেও বাস্তবে এটা সম্পূর্ণ করা যায়। প্রতিদিন একটু একটু করে এগিয়ে
গেলে ৬ মাস পর আপনি নিজেই অবাক হবেন।, মনে রাখবেন আজকের একটি
আর্টিকেল বছরের পর বছর আপনার জন্য আয় করতে পারে।
সবচেয়ে বড় ভুল হলো শুরু না করা।
আজই প্রথম আর্টিকেল লিখুন। এক বছর পর আপনি খুশি হবেন যে আজ শুরু করেছিলেন।
👉এই গাইডটি কাজে লেগেছে? বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন - আপনার
একটি শেয়ার কারো জীবন বদলে দিতে পারে!
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url